রাজশাহীর পবা উপজেলার তেবারিয়া গ্রামে বুধবার দুপুরে দুই অক্ষম যুবকের বিয়ের আনন্দময় অনুষ্ঠান হয়েছে। বিয়ের আয়োজন করেছে লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন। বিয়ের খরচ বহন করেছেন পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি খায়রুল আলম। বিয়ের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রিয়াজ শিকদার।
বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়দ আলী মর্শেদ। তিনি নবদম্পতিকে একটি বিছানা উপহার দিয়েছেন। গ্রুমের দলের ১৫ জন সদস্য তারেকের সাথে এসেছিলেন। এলাকার প্রায় ২০০ জন মানুষকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রান্না থেকে শুরু করে অতিথিদের বিনোদন পর্যন্ত সবকিছুই ছিল যথেষ্ট।
কাজী ওয়াজেদ আলী ৬০ হাজার টাকা দেনমোহর নিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। বিয়ের পর তারেক হকচকিয়ে কণ্ঠে বলেছেন, 'আমি বয়শাখীকে পছন্দ করেছি। সেজন্যই বিয়ে করছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।' বিএনপি নেতা খায়রুল আলম বলেছেন বয়শাখীর পরিবার খুবই দরিদ্র এবং অসহায়। তাদের কন্যার বিয়ের ব্যবস্থা করার ক্ষমতা ছিল না।
পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়দ আলী মর্শেদ বলেছেন বয়শাখী এবং তারেকের স্বপ্ন এবং জীবনযাপনের অধিকার সবার মতোই। যদি সমাজের ক্ষমতাবান মানুষ এবং সংগঠন এইভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে অসহায় মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা সম্ভব। লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রিয়াজ শিকদার বলেছেন তার নিজের সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন সংগ্রাম কাছ থেকে দেখেছেন।
সেই অনুভূতি থেকে তিনি অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তার সংগঠনের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১৫ জন প্রতিবন্ধী মানুষের বিয়ে হয়েছে। সেই ছোট গ্রামের মাঠের ঠিকানায় সেদিন ছিল শুধুমাত্র একটি বিয়ের আয়োজন নয়, দুই অসহায় মানুষের স্বপ্ন পূরণের গল্প, যারা সমাজের সহায়তায় নতুন বাড়ি গড়ে তুলেছে।





























