যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনায় চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানে ‘খুবই কঠিন’ হামলার যে হুমকি দিয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনা স্থাগিতের কথা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ বিষয়গুলো ও সেগুলোর বিস্তারিত—দুটিই অনুমোদন করেছে।
এখানে সব পক্ষ বলতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিসর ও অন্যান্য দেশের কথা পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প আরও জানান, সপ্তাহান্তে ইউরোপের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের এই চুক্তি সই হতে পারে। তবে তিনি এ আয়োজনে থাকতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেথানে থাকবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পরপরই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানে বৃহস্পতিবার রাতের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানের নেতৃত্বের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়’ এবং একাধিক আঞ্চলিক রাষ্ট্রের (চুক্তির খসড়া) অনুমোদনের পর তিনি ইরানে হামলা ও বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আলোচনার বিষয়টি ইরানের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এর পরই আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ সন্ধ্যায় ইরানে পূর্বনির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণ স্থগিত করেছি।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারসের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির খসড়া তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো অনুমোদন করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এ কথা জানায় সংবাদ সংস্থাটি।
আর ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ ট্রাম্পের এমন ঘোষণা নাকচ করে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগেও এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন; কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি।



















