মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপের ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং এল নিনোর পূর্বাভাসের সঠিকতা ‘মারাত্মকভাবে কমে যাবে’। অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের।
গত মাসে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাটি বড় ভূমিকা রাখে। এটি বন্ধ করে দিলে মহাসাগরগুলোর উষ্ণতা বৃদ্ধির বার্ষিক হিসাবে ভুলের মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।
গ্লোবাল ক্লাইমেট অবজারভিং সিস্টেমের (বৈশ্বিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণব্যবস্থা) সমুদ্রবিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান সাবরিনা স্পাইক বলেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপের ফলে ঝড়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং এল নিনোর পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। কখনো কখনো এই দুর্বলতা ‘বিপজ্জনক রূপ’ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এই ‘ওশান অবজারভেটরিজ ইনিশিয়েটিভ’ (ওওআই) পরিচালনা করে। এই নেটওয়ার্ক থেকে সারা বিশ্বের গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক ও নাবিকেরা নিয়মিত তথ্য পেয়ে থাকেন।
এই ব্যবস্থাটি বাতিল করলে ‘গ্লোবাল ওশান অবজারভিং সিস্টেম’ (গস) তার একটি প্রধান অংশ হারাবে। বিশেষজ্ঞরা এই নেটওয়ার্ককে সমুদ্রের ‘চোখ ও কান’ বলে থাকেন। তাঁরা বলছেন, এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি সতর্কতাব্যবস্থা মানুষের ‘জীবন বাঁচায়’।
গবেষণাপত্রের সহ-লেখক স্পাইক বলেন, ‘সমুদ্রের তাপমাত্রাই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক। এটি শুধু সমুদ্রের ভেতরের অবস্থা নয়, বরং পুরো জলবায়ু–ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে।’
স্পাইক আরও বলেন, সমুদ্রের গভীরতা অনুযায়ী তাপমাত্রার যে মাপজোখ নেওয়া হয়, তা তথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিগুলোর একটি। এই তথ্যগুলো হারালে শুধু সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির হিসাবই হারাবে না, বরং পুরো জলবায়ু–ব্যবস্থায় নজরদারির সক্ষমতা হারাবে।
মিনেসোটার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট টমাসের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এই গবেষণার সহ-লেখক জন পি আব্রাহাম বলেন, ‘সমুদ্রের চোখ-কান হিসেবে পরিচিত এই সেন্সরগুলোর পেছনে এক বিলিয়ন ডলারের কম খরচ বাঁচাতে চাইছে মার্কিন সরকার। অথচ প্রতিবছর আমাদের শত শত বিলিয়ন ডলারের জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলা করতে হয়।’
ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) এই বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু ও আবহাওয়াবিষয়ক ডেটাবেজ পরিচালনা করে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘অগ্রাধিকার পরিবর্তনের’ কারণে এই তথ্যভান্ডার আর হালনাগদ করা হবে না।
সামান্থা বার্জেস ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থ অবজারভেশন সিস্টেম ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ (সি৩এস)-এর কৌশলগত জলবায়ু প্রধান। তিনি বলেন, সমুদ্র পর্যবেক্ষণব্যবস্থা ‘অপরিহার্য’। কারণ, মহাকাশ থেকে গভীর সমুদ্র দেখা যায় না। ভয়ংকর ঝড়ের আগাম সতর্কতা দিয়ে এই ব্যবস্থা মানুষের ‘জীবন বাঁচায়’।












