ইসলামে কর ফাঁকি দেওয়া বৈধ নয়। রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক চুক্তির প্রতি ইসলামের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি হলো, নাগরিক রাষ্ট্রকে কর দেবে এবং রাষ্ট্র তার বিনিময়ে নাগরিকের জানমাল, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা দেবে। ইসলাম এই অঙ্গীকার রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।
জাকাত ও করের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জাকাত আল্লাহর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও ইসলামের অন্যতম রুকন, যার ব্যয়ের খাতগুলো কোরআন দ্বারা নির্ধারিত। অন্যদিকে কর হলো একটি সাময়িক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যা রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য জনগণকে দিতে হয়।
ইমাম কুরতুবি লিখেছেন, সমাজে যদি এমন কোনো জরুরি পরিস্থিতি বা যৌথ প্রয়োজন দেখা দেয়, যার সমাধান সাধারণ জাকাতের অর্থ দিয়ে করা সম্ভব নয়, তবে রাষ্ট্র প্রয়োজনমাফিক অতিরিক্ত কর ধার্য করতে পারে এবং নাগরিকেরা তা পরিশোধ করতে বাধ্য।
হাদিসবেত্তাদের মতে, জাকাতের বাইরের হক মানে জাতীয় প্রয়োজনের সময় অভাবীদের সদকা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে অর্থবিত্ত নিয়ে এগিয়ে আসা। সুতরাং জাকাত আদায় করলেই রাষ্ট্রীয় কর ফাঁকি দেওয়ার ধর্মীয় বৈধতা তৈরি হয় না।
কর ফাঁকি দিলে তাতে জনগণের হক নষ্ট করার অপরাধও হয়। কেননা, কোটি মানুষের অর্থে রাষ্ট্রীয় সুবিধা ঠিকই ভোগ করছেন, তাতে আপনার কাছে রাষ্ট্রের যে পাওনা বা ঋণ থাকল, তা পরিশোধ করছেন না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জনগণের ওপর অন্যায় কর চাপিয়ে না দেওয়া। প্রাচীন আমলে রাজা–বাদশাহরা জনগণের ওপর অন্যায় কর চাপিয়ে দিতেন, যাকে বলা হতো ‘মাকস’। হাদিসে এসব কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে বলা হয়েছে।




















