সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মা সরস্বতী হলেন এই শিক্ষা, জ্ঞান, ললিতকলার দেবী। তাঁর আশীর্বাদ আর মানুষের নিষ্ঠা ও জানার আগ্রহ তাঁকে পৌঁছে দিতে পারে জ্ঞানের চরম শিখরে। এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করে দেশ-বিদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সরস্বতী মাকে পূজা দিয়ে তুষ্ট করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
সরস্বতীর উৎপত্তি ও পূজা
শুক্লা পঞ্চমীর মাহেন্দ্রক্ষণে সরস্বতীপূজা হয়। এই দিনে মা সরস্বতীর জন্ম হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। ঋগ্বেদ অনুসারে, ব্রহ্মা তাঁর নিজের সৃষ্টিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। চারদিকে নিস্তব্ধতা। তারপর তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে জল ছিটিয়ে দিলেন, যার ফলে এক চতুর্ভুজা নারী তাঁর হাতে বীণা নিয়ে হাজির হলেন। ব্রহ্মার আদেশে দেবী বীণায় সুমধুর সুর তোলেন, যা বিশ্বকে শব্দ ও বাণীতে অভিভূত করে। এরপর ব্রহ্মা দেবীর নাম রাখেন ‘সরস্বতী’।
সরস্বতীর রূপ ও বৈশিষ্ট্য
সরস্বতী সাধারণত চতুর্ভুজা, পদ্মাসনা, শুক্লাবর্ণা, শুভ্রবর্ণা, বীণা-পুস্তক, জপমালা, সুধাকলসর্ধারিণী, চন্দ্রশেখরা, ত্রিলোচনা। তবে কখনো দেবী দ্বিভুজা। তন্ত্রে সরস্বতী বাগীশ্বরী-বর্ণেশ্বরী সারদা। বৈদিক জ্যোতিরূপা সরস্বতী ও নদী সরস্বতী সম্মিলিতভাবে জ্ঞানের দেবীরূপে পুরাণতন্ত্র ও সাহিত্যে বিপুল শ্রদ্ধা ও ভক্তির অধিকারিণী হয়েছেন।




















