ইসলামের পার্থক্য হলো এটি দেহ ও আত্মার স্বভাবজাত চাহিদা ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। কোনো মুসলমানকে জাগতিক আকাঙ্ক্ষা, জৈবিক প্রয়োজন ও পার্থিব চাহিদা থেকে বারণ করে না। তবে ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় ও মধ্যপন্থার কথা বলে।
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন, তা দিয়ে তুমি আখেরাতে (স্থায়ী সুখভোগের) আবাস অনুসন্ধান করো, আর দুনিয়ায় তোমার অংশের কথা ভুলে যেয়ো না, (মানুষের) কল্যাণ সাধন করো, যেমন আল্লাহ তোমার কল্যাণ করেছেন, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির কামনা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৭৭)
ইসলাম পরিমিতিবোধ বজায় রেখে, সব ধরনের বৈধ নান্দনিক চর্চা, পছন্দের বিষয় উপভোগ করার অনুমতি দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! প্রতিটি নামাজের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ করো, আর খাও এবং পান করো। তবে অপব্যয় ও অমিতাচার করবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না।’
আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, ইসলামে কোনো বৈরাগ্যবাদ নেই। কারণ, বৈরাগ্যবাদ আধ্যাত্মিক মানুষকে নিজ মুক্তি ও নির্বাণ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে শেখায়। তারা মঠ, গির্জা, গুহা ও কুঠুরিতে নির্জনবাস গ্রহণ করে। জগৎ ও মহাবিশ্বের কথা ভুলে যায়।
ইসলাম আগমনের আগে খ্রিষ্টানদের মধ্যে যে বৈরাগ্যবাদ প্রচলিত ছিল, তা সম্পর্কেও কোরআন মন্তব্য করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর বৈরাগ্যবাদের যে বিষয়টা, তা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল। আমি তাদের ওপর তা বাধ্যতামূলক করিনি। বস্তুত তারা (এর মাধ্যমে) আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানই করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছিল, তাদেরকে আমি তাদের প্রতিদান দিয়েছিলাম। আর তাদের বহুসংখ্যক হয়ে থাকল অবাধ্য।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত: ২৭)




















