ইসলাম প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে এবং ইসলামি আইনের (ফিকহ) একটি বড় অংশ তাঁদের অধিকার সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
ইসলাম প্রতিবন্ধীদের ওপর কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেয়নি এবং তাঁদের কঠোর জীবিকা উপার্জনের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত রেখেছে। পবিত্র কোরআনের যেসব আয়াত এবং হাদিসে দুর্বল ও অসহায়দের সঙ্গে সদাচরণ ও তাঁদের জন্য ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিবন্ধীরাও সেই নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত।
পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব
ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবগুলোতে ‘নিকটাত্মীয়দের ভরণপোষণ’ শিরোনামে যে বিবরণ রয়েছে, তার মূল কথাই হলো প্রতিবন্ধীদের জীবন ও জীবিকায় স্বজনদের সহযোগিতা করা। খলিফা ওমরের যুগে সাধারণ রাষ্ট্রীয় আদেশ ছিল যে দেশের যত পঙ্গু, অক্ষম ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি আছে, সবার ভাতা যেন বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) থেকে নির্ধারণ করা হয়।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা
সামাজিক ও অর্থনৈতিক লেনদেনে প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় রাসুল (সা.) ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল। নবীজি তাঁর ও তাঁর মতো ব্যক্তিদের জন্য কেনাবেচায় ‘খিয়ারে শর্ত’ (শর্তযুক্ত অধিকার) প্রবর্তন করেন, যার ফলে বিক্রেতা বা ক্রেতা কেনাবেচা চূড়ান্ত করার পরও তা বাতিলের জন্য তিন দিনের সুযোগ পান।
ইবাদত ও জিহাদের অব্যাহতি
শারীরিক শ্রম ও কষ্টসাধ্য অনেক ইবাদত থেকে ইসলাম প্রতিবন্ধীদের হয় সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছে অথবা সহজ বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। জুমা ও জামাতে উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে প্রতিবন্ধীরা মুক্ত। সম্পদশালী কিন্তু পঙ্গু ও অক্ষম হলে হজের পরিবর্তে ‘হজে বদল’ এবং রোজার পরিবর্তে ‘ফিদইয়া’র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিগ্রহে সুরক্ষা
ইসলামের আবির্ভাবের আগে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিগ্রহে যোদ্ধাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো পার্থক্য করা হতো না। ইসলাম এ ক্ষেত্রে প্রথম বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করেছে—১. প্রত্যক্ষ যোদ্ধা এবং ২. সাধারণ অসামরিক নাগরিক। ইসলাম প্রথম শ্রেণির ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণের অনুমতি দিলেও দ্বিতীয় শ্রেণির শান্তিকামী ব্যক্তি—যেমন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ, অন্ধ ও বিকলাঙ্গদের হত্যা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।




















