মক্কার ধনকুবের হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া ইসলামের স্বার্থে মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করে হাবাশায় হিজরত করেছিলেন। তার জীবন চরম রাজকীয় আয়েশের মধ্যে কাটিয়েছিল। দুঃখ বা অভাব কী জিনিস, তা তিনি জানতেন না। কিন্তু শুধু সত্য কবুলের ‘অপরাধে’ তাঁকে বিতাড়িত হতে হলো সেই সুখরাজ্য থেকে। তবু এতকাল প্রেমময় স্বামীর সঙ্গে নিজের মাতৃভূমিতেই তো ছিলেন। কিন্তু ইসলামের স্বার্থে সেই সামান্য সুখটুকুও আজ বিসর্জন দিতে চলেছেন। স্বদেশ ছেড়ে ছুটে চলেছেন এক অজানা-অচেনা কৃষ্ণবর্ণের দেশ হাবাশার (আবিসিনিয়া) উদ্দেশে।
হাবাশায় নতুন জীবন
হাবাশার প্রবাসজীবনে হিন্দ আরেকটি পরম আনন্দের মুখোমুখি হন, যা তাঁর মাতৃভূমি ছাড়ার সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয়। বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের মধ্যে তিনি নতুন এক সত্তার প্রাণস্পন্দন অনুভব করছিলেন। একদিন সেই আনন্দ এক ফুটফুটে শিশুপুত্রের রূপ ধরে পৃথিবীতে আসে। মায়ের মতোই উজ্জ্বল অবয়ব নিয়ে জন্ম নেওয়া সেই নবাগতের নাম রাখা হয় ‘সালামা’। আর সেই দিন থেকেই আবদুল্লাহ ও হিন্দ দম্পতি আরবের প্রথা অনুযায়ী নতুন কুনিয়াত বা সম্বোধনে পরিচিত হয়ে ওঠেন—‘আবু সালামা’ ও ‘উম্মে সালামা’।




















