হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার সব বান্দাকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের কাছে শয়তান এসে তাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আমি যেসব জিনিস তাদের জন্য হালাল করেছি, শয়তান তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদের আমার সঙ্গে এমন বিষয়ে শিরক করার নির্দেশ দেয়, যে বিষয়ে আমি কোনো প্রমাণ পাঠাইনি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৬৫) হাদিসের পরবর্তী অংশে রাসুল (সা.) বেহেশতের স্থায়ী অধিবাসী হবেন—এমন তিন শ্রেণির মানুষের বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
ন্যায়পরায়ণ শাসক
এমন ক্ষমতার অধিকারী বা শাসক, যিনি ন্যায়পরায়ণ, দানশীল এবং নেক কাজের তৌফিকপ্রাপ্ত। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, এখানে ‘সুলতান’ বা শাসক বলতে কেবল রাষ্ট্রপ্রধান নয়, বরং সমাজের যেকোনো স্তরের দায়িত্বশীল বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ‘মুকসিত’ শব্দের অর্থ হলো যিনি নিজের পরিবার, অধীন সমাজ বা রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী নিখাদ ইনসাফ ও সাম্য কায়েম করেন।
দয়ালু মানুষ
এমন ব্যক্তি, যিনি অত্যন্ত দয়ালু এবং প্রত্যেক আত্মীয় ও মুসলমানের প্রতি কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ইসলামে মানুষের প্রতি দয়া ও পারস্পরিক সহানুভূতিকে ইমানের অন্যতম পরিমাপক ধরা হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত ‘রকিকুল কলব’ বা কোমল হৃদয়ের অর্থ হলো যিনি অন্য মানুষের দুঃখ, কষ্ট বা বেদনা দেখলে নিজে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যথিত হন।
চরিত্রবান অভাবী ব্যক্তি
এমন অভাবী ব্যক্তি, যিনি চরিত্রবান, হারাম থেকে বেঁচে থাকেন এবং পরিবার-পরিজন থাকা সত্ত্বেও কারও কাছে হাত পাতেন না। ইমাম নববি (রহ.) বলেছেন, ‘আফিফ’ মানে হলো যিনি চরিত্রগতভাবে সম্পূর্ণ পবিত্র, অর্থাৎ মনস্তাত্ত্বিকভাবে সব ধরনের পরধন ও পরনারীর প্রতি কুদৃষ্টি বা লোভ থেকে মুক্ত। ‘মুতাআফফিফ’ হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর তীব্র অভাব-অনটন এবং পরিবার-পরিজন বা সন্তানদের ভরণপোষণের প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও যিনি মানুষের সামনে নিজের অভাব প্রকাশ করেন না।




















