রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুর্গাপূজা নিয়ে ভাবিত ছিলেন যদিও তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন না। ঠাকুর পরিবারে দুর্গাপূজা ছিল একটি বিশেষ অনুষ্ঠান যেখানে সকলের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর দুর্গাপূজার সময় প্রবাসে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে ষষ্ঠীর দিন ছেলেমেয়েদের, আত্মীয়স্বজনদের, কর্মচারী, ভৃত্য এমনকি ঝিদেরও নতুন জামাকাপড় দিতেন।
দ্বারকানাথ ঠাকুর অত্যন্ত দরাজ ছিলেন এবং প্রচুর খরচ করতেন। তিনি মোয়া, ক্ষীর ইত্যাদি মিশিয়ে বৃহদাকার মিঠাই তৈরি করাতেন এবং সবাইকে আপ্যায়ন করতেন।
রবীন্দ্রনাথের মেজদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর দালানে সন্ধ্যার আরতি দেখতেন এবং ধূপধুনো–বাদ্যধ্বনির মধ্যে ঠাকুরকে প্রণাম করতেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ কন্যা সৌদামিনী দেবী লিখেছেন, বিজয়ার দিনে ছেলেরা নতুন পোশাক পরে প্রতিমার সঙ্গে চলত এবং মেয়েরা তেতলার ছাদে উঠে প্রতিমা বিসর্জন দেখত।
সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে বিজয়ার রাতে শান্তিজল দান ও ছোট-বড় সবার মধ্যে কোলাকুলি খুব প্রিয় ছিল। নিজেদের বাড়িতে হতো বিজয়া সম্মিলনী যেখানে খাওয়াদাওয়া, তাতর পান, গোলাপজলের ছড়াছড়ি হতো।
ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির মা দুর্গাকে খাঁটি সোনার গয়না দিয়ে সাজানো হতো এবং ভাসানের সময়ও তা খুলে নেওয়া হতো না।
তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দশ বছর পরও ঠাকুরবাড়িতে দুর্গাপূজা আর জগদ্ধাত্রীপূজা অনুষ্ঠিত হতো। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের কনিষ্ঠ ভাই নগেন্দ্রনাথের মতে, দুর্গোৎসব আমাদের সমাজবন্ধন, বন্ধুমিলন ও সবার সঙ্গে সদ্ভাব স্থাপনের একটি উৎকৃষ্ট ও প্রশস্ত উপায়।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ছোট কাকার ধারণায় প্রভাবিত ছিলেন বলে অনেকের ধারণা। তাঁর বক্তব্য ছিল, অবর্ণনীয় দুঃখ আর অনির্বচনীয় আনন্দের ঠিক মাঝখানে বাঙালি চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকে। জাতিগতভাবে এখানেই তার অনন্যতা, এখানেই তার অমরত্ব।




















