দ্য পালস টুডে
EN
ব্রেকিং

সকলের সহযোগিতায় ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সবার সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

লিখেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মিনিট পড়া
শেয়ার
সবার সহযোগিতা পেলে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সবার সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেছেন, ‘সৈনিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ দেশকে যেভাবে কল্পনা করে, সরকার চেষ্টা করছে পর্যায়ক্রমে দেশটাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে। আমি বহু বছর দেশে থাকতে পারিনি। কেন পারিনি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। কারণ, সে সময় দেশে ভালো-মন্দ কী হয়েছে, তা নিয়ে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু এখন আমরা দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।’

দেশ গঠনে সবার দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই নির্দিষ্ট কর্তব্য আছে। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে সেগুলো পালন করি, তবে অবশ্যই আমাদের কাঙ্ক্ষিত দেশটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ ঈদের দিনে আসুন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এবং তাঁর রহমত কামনা করি, তিনি যাতে আমাদের সবাইকে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তৌফিক দান করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে আমরা যাতে সারা দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে পারি এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি—আল্লাহর কাছে এটাই চাওয়া।’

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই প্রীতিভোজের আয়োজন করে। এতে অফিসার ও সৈনিকেরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরে তারেক রহমান পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর শৈশবকালের স্মৃতি রোমন্থন করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি যখন আসছিলাম, সে সময় হঠাৎ মনে হলো আমি ৪৫/৪৬ বছর পেছনে চলে গেছি। আমার সঙ্গে যাঁরা গাড়িতে ছিলেন, তাঁদেরকেও এই গল্পটা বলছি। ১৯৭৫/৭৬ বা ৭৭ সালের কথা হবে। সিএমএইচের গেটটা তখন এত বড় ছিল না। গাড়িতে সঙ্গে থাকা এডিসিকে জিজ্ঞেস করলাম, সিএমএইচে ঢোকার পরে ছোট একটা প্যাথোলজি ছিল; ওটার সামনে বাগানের মতো একটা জায়গা ছিল; সেখানে দু–তিনটা সিমেন্টের বেঞ্চ ছিল; সেগুলো এখনো আছে?

‘তারপর আবার বললাম, একদম সোজা গেলে হাতের বাঁ দিকে ছিল ফ্যামিলি ওয়ার্ড আর ডান দিকে তখন স্টাফ সার্জন বসতেন। আর টিনের ঘরে স্টাফ সার্জন বসতেন। আমার জ্বর হলে একা একাই চলে যেতাম। এখনো মনে আছে, ওই সময়ে স্টাফ সার্জন ছিলেন মেজর আনোয়ার।’

প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণে আরও উঠে আসে প্রতিদিন বিকেলে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে সাইকেল চালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা।

তারেক রহমান বলেন, ‘ওই সময় প্রায় প্রতিদিন বিকেল বেলা বন্ধুদের সঙ্গে বের হতাম ৭-৮টা সাইকেল নিয়ে। সাইকেল চালাতে চালাতে সিগন্যালের কাছে মসজিদটার ওখানে যেতাম। সেই মসজিদটা এখন আরও অনেক সুন্দর! তখন পুরোপুরি সাদা চুনের পেইন্ট করা ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মূল বিষয়টা হচ্ছে যে এই এলাকাটা বহু পুরোনো। আমরা যেখানে বসে আছি, একসময় এখানে জঙ্গলের মতো ছিল। আপনারা এখন অনেক সুন্দর একটা জায়গা দেখছেন, কিন্তু তখন রাস্তাটা সরু ছিল। আমি আজ এমন একটা স্থানে এসেছি, যেখানে আমার জীবনের বিরাট একটা বড় অংশ জড়িয়ে আছে। আমার ভালো-মন্দ, কষ্ট-ব্যথা, সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি এই পুরো এলাকায় মিশে একাকার আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ঈদ, আনন্দের দিন। আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম কারণ এই জায়গাটায় এলে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। কারণ, ছোটবেলা থেকে এখানে বড় হয়েছি। সৈনিকদের ব্যারাকের ভেতরে ঘুরে বেড়াতাম, তাদের সঙ্গে কথা বলতাম।’

অফিসার ও সৈনিকদের দেশমাতৃকার প্রতি দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশের প্রয়োজনে অনেকেই হয়তো আজ ছুটিতে যেতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবে ঈদের সময় মানুষ পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চায়। আপনাদের স্যাক্রিফাইসের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশ এবং জাতি আপনাদের এই আত্মত্যাগকে অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব পালন ও কল্যাণের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে সরকার অবগত রয়েছে। সাম্প্রতিক একটা ভিডিওকে আপনাদের সাফল্যের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাস আগে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল; দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন ধরানো হয়েছিল। আপনারা সেখান থেকে প্রায় ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিলেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনে সৈনিকেরা জীবন দেয়। আর আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সেই জীবন এবং সেই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করা। আর সেটির প্রথম শর্ত হচ্ছে নিজের দেশ সম্পর্কে সবার আগে চিন্তা করা। কারণ, আমরা সবাই এই দেশটাকে ভালো অবস্থানে দেখতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের সকল স্তরের মানুষ চায়, তাদের সন্তানেরা যেন সুন্দরভাবে লেখাপড়া করার সুযোগ পায় এবং পরিবারের সদস্যরা যাতে সুচিকিৎসার সুযোগ পায়। সাধারণত মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

আপনার প্রতিক্রিয়া

এই খবরটি কি সহায়ক ছিল?

সংবাদ ফ্রি রাখতে পাশে দাঁড়ান

আমরা পাঠকের সেবা করি, বিজ্ঞাপনদাতার নয়। যারা সংবাদের জন্য টাকা দেন, তারাই এর দিকনির্দেশনা ঠিক করেন — সিদ্ধান্ত আপনার।

১০ টাকা থেকে ডোনেশন শুরু →

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রধানমন্ত্রী কী বক্তব্য দিয়েছেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবার সহযোগিতায় ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তব্যটি কোথায় দেওয়া হয়েছে?
ঈদুল আজহার দিন ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে।

এই খবর নিয়ে এআই-কে জিজ্ঞাসা করুন

মন্তব্য

আরও: রাজনীতি

সব দেখুন →
বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না: মির্জা ফখরুল
রাজনীতি

বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বিভাজন নয়: মির্জা ফখরুল

বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মিনিট পড়া
‘ভাইরাল’ না হলে টনক নড়ে না
রাজনীতি

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টনক নড়ে না যদি না হয় ভাইরাল: রুমিন ফারহানা

ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টনক নড়ে না বলে মনে করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মিনিট পড়া
বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি–লুটপাট বন্ধ না করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার: গোলাম পরওয়ার
রাজনীতি

বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি বন্ধ না করে দাম বাড়িয়েছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ খাতের সব অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের সিন্ডিকেট জড়িত।

মিনিট পড়া
হাদি হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল
রাজনীতি

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল

ইনকিলাব মঞ্চ হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িত দেশীয় খুনিদের চিহ্নিত করা, পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে মশালমিছিল করেছে।

মিনিট পড়া
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল
রাজনীতি

এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল: বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

মিনিট পড়া

সর্বশেষ সংবাদ

মাইকেল জ্যাকসন কি সত্যি শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন
বিনোদন

মাইকেল জ্যাকসনের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: নতুন নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র সিরিজ নিয়ে বিতর্ক

মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে নতুন নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র সিরিজ 'মাইকেল জ্যাকসন: দ্য ভারডিক্ট' জটিল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

মিনিট পড়া
ইরানের সঙ্গে চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর সামনে ‘কোনো বিকল্প নেই’
আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর কাছে ইরানের সঙ্গে চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের সঙ্গে যে চুক্তিই করা হোক না কেন তা মেনে নিতে হবে।

মিনিট পড়া
বিশ্বকাপ ফুটবল: আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা ঢাকায় জনপ্রিয়
বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ ফুটবল: আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা ঢাকায় জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ঢাকায় আসেন পতাকা বিক্রেতারা, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে।

মিনিট পড়া
১৩৫৯৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: প্রস্তাবিত এমসিকিউ পরীক্ষায় সংস্কার প্রয়োজন
চাকরি

১৩৫৯৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষায় সংস্কার প্রয়োজন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার পদে মোট ৮৬ হাজার ৪৪৫ জন আবেদন করেছেন।

মিনিট পড়া
ছয় বছরের মধ্যে ইরানের তেল রপ্তানি সর্বনিম্ন, মার্কিন নৌ অবরোধের জের
বাণিজ্য

মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ছয় বছরের সর্বনিম্ন

মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে গত মে মাসে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

মিনিট পড়া
সাহাবিরা কেন এত সাহসী ছিলেন
ধর্ম

সাহাবিদের সাহসিকতার রহস্য: আল্লাহর ওপর নির্ভরতা এবং সত্যের প্রতি অঙ্গীকার

সাহাবিরা কেন এত সাহসী ছিলেন, এর কারণ তাঁদের আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ও সত্যের প্রতি নিষ্ঠা।

মিনিট পড়া