বাম দলগুলো রাজনীতি ও ভোটের মাঠে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থী জোটের সব প্রার্থীই হারিয়েছেন জামানত। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সব বামপন্থী দলের ভোট ১ শতাংশের কোটা পেরোতে পারেনি।
এই নির্বাচন সামনে রেখে বাম ধারার নয়টি দল জোট গঠন করে। জোট গড়লেও আসনগুলোতে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারেনি। বাম দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার, দলের গঠনতন্ত্র, নেতাদের বক্তৃতার মূল বিষয় হচ্ছে দরিদ্র শ্রেণি, শ্রমজীবী ও কৃষক। কিন্তু শ্রমিক অঞ্চল, উত্তরবঙ্গের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠী কিংবা কৃষিপ্রধান এলাকা—কোথাও তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি।
বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলা হবে—এই আলোচনা দীর্ঘদিনের। নেতৃত্বে দলাদলি, বিভক্তি ও কথিত তাত্ত্বিক বিরোধে নিজেদের মধ্যেই কোনো ঐক্য নেই। এ ছাড়া দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট। ফলে একেকটি বামপন্থী দল একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে নামের শেষে ব্র্যাকেট যুক্ত করেছে।
বাম দলগুলোর মধ্যে ভাঙন এমন রূপ নিয়েছে, যা ‘অণু-পরমাণুতে’ রূপ নেওয়ার মতো হাস্যরসের সৃষ্টি করে। স্বাধীনতার আগে কমিউনিস্ট নেতারা ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের অধীন এবং স্বতন্ত্র নির্বাচন করে কিছুটা সাফল্য দেখায়। তবে রাজনীতির মূল শক্তি হিসেবে স্থায়িত্ব পায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী।



















