বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন খুব সীমিত। সরকারে জায়গা পেয়েছেন মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতা। এতে শরিকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটা তো বিএনপি সরকার।
শরিকদের অসন্তোষের কারণ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২২ সালের ২৮ মার্চ লন্ডনে স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রথম ঘোষণা দেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জয়ী অথবা পরাজিত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এই বিষয়টির উল্লেখ করেছিলেন।
নির্বাচনে শরিকদের ফলাফল
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে মিত্র পাঁচটি দলকে ছাড়া হয়েছিল আটটি আসন, যারা তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। মিত্র পাঁচটি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি এবং অন্যান্য চারটি দলকে একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ও গণ অধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নূর।
সরকার গঠনের পর শরিকদের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনের পর বিএনপি যে জাতীয় সরকারের ধারণা থেকে সরে গেছে, সেটির উল্লেখ করে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিএনপি যা বলেছিল, সেটা তারা করেনি। বলতে পারেন, দুজনকে (মন্ত্রী) তো করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে জোটের সরকার, সেটা তো বিএনপিও বলছে না।’
বিএনপির প্রতিশ্রুতি পূরণের আশা
শরিক দলের নেতাদের বড় একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় বিএনপিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জায়গায় ঠেলে দিচ্ছে। যে কারণে দুঃসময়ের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ-সম্পর্ক নেই। এটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। শরিকরা হতাশ হলেও জাতীয় সরকার নিয়ে প্রতিশ্রুতিও পূরণের আশা দিচ্ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।



















