চট্টগ্রামের শুলকবহরে অবস্থিত মেজ্জান হাইলে আইয়ুন রেস্তোরাঁয় মেজবানের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। এই রেস্তোরাঁটি চালু করেছেন মনজুরুল হক। তিনি চট্টগ্রামের ছেলে, সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা করেছেন। খাবারের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে তিনি ২০১২ সালে ‘বারকোড ক্যাফে’ শুরু করেছিলেন। পরে ‘মেজ্জান হাইলে আইয়ুন’ চালু করেন।
মেজবানের ইতিহাস ও গুরুত্ব
মেজবান শব্দটির শিকড় ফারসিতে। অর্থ, অতিথি আপ্যায়ন। চট্টগ্রামে এসে এটিই হয়ে গেছে ‘মেজ্জান’। এটি একধরনের সামাজিক চর্চা। কুলখানি, চেহলাম, মৃত্যুবার্ষিকী—এসব আয়োজনে মেজবান প্রায় অপরিহার্য। আকিকা, খতনা, গায়েহলুদ, নতুন ব্যবসা, নতুন বাড়িতে ওঠা—সব জায়গাতেই মেজবানের আয়োজন দেখা যায়। ইতিহাস বলছে, বিশেষ এই ভোজের বয়স কয়েক শ বছর। ধারণা করা হয়, আরব বণিকদের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এর শুরু।
মেজ্জান হাইলে আইয়ুনের অভিজ্ঞতা
মেজ্জান হাইলে আইয়ুনে ঢুকতেই অন্য রকম এক ব্যস্ততা চোখে পড়ে। দরজা পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই নাকে লাগে মেজবানি মাংসের কড়া ঘ্রাণ। এক পাশে সারি সারি টেবিল। পরিবার নিয়ে বসেছেন অনেকে। কেউ প্লেটে ভাত মেখে নিচ্ছেন, কেউ পাশেরজনকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন ঝোল। টেবিলের ওপর মাটির শানকি। তার ভেতর লালচে ঝোল আর নরম মাংস। পাশে বুটের ডাল। সালাদ। আবার কোথাও বন্ধুরা একসঙ্গে বসেছেন। গল্পের সঙ্গে ভেসে আসছে হা-হা হি-হি। রান্নাঘরের দিক থেকে ভেসে আসছে হাঁড়ি নাড়ার শব্দ। মাঝেমধ্যে কর্মীরা দ্রুত পায়ে টেবিলের দিকে ছুটছেন।



















