চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় নিয়োগকর্তারা এখন চাকরি প্রার্থীদের ব্যক্তিত্ব আর আত্মবিশ্বাস দেখতে চান। কাগজের সাদাকালো সিভির পরিবর্তে একটি ছোট ভিডিও সিভি বানানো এখন নতুন ধারা। এটি আপনার অভিজ্ঞতা আর সৃজনশীলতাকে সরাসরি প্রকাশ করে।
ভিডিও সিভি তৈরির আগে একটু ভাবুন। এটি আপনার চাকরির জন্য কতটা দরকার? মার্কেটিং, সেলস বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো পেশায় এটি দারুণ কার্যকর। কিন্তু পর্দার আড়ালে কাজ বা খুব প্রযুক্তিগত পদের জন্য এর প্রয়োজন কম।
ভিডিওটি দীর্ঘ করবেন না। সর্বোচ্চ দুই মিনিটের মধ্যেই কথা শেষ করুন। ভিডিও দীর্ঘ হলে নিয়োগদাতা মনোযোগ হারাতে পারেন। কথা বলার আগে একটি খসড়া তৈরি করে নিন। তবে রোবটের মতো মুখস্থ বলবেন না। আপনার বাচনভঙ্গি হতে হবে সাবলীল।
কাগজের সিভিতে যা লেখা আছে, ভিডিওতে ঠিক তাই বলা সময়ের অপচয়। কাগজের সিভি আপনার কাজের ইতিহাস বলে। আর ভিডিও সিভি বলে আপনার ব্যক্তিত্বের কথা। সিভির না বলা কথাগুলো এখানে বলুন। কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা নিয়ে এখানে আলোচনা করতে পারেন।
ভিডিওর সৌন্দর্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দামি ক্যামেরা না থাকলেও চলবে। তবে আপনার চারপাশ যেন পরিষ্কার আর গোছানো থাকে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দিনের আলোতে ভিডিও করা সবচেয়ে ভালো। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে রিং লাইট ব্যবহার করতে পারেন।
ভিডিওটি সরাসরি ই-মেইলে অ্যাটাচ করবেন না। এটি প্রথমে ইউটিউব বা ভিমিওতে আপলোড করুন। প্রাইভেসি সেটিং ‘আনলিস্টেড’ করে দিন যেন শুধু লিংক থাকলেই দেখা যায়। এরপর ভিডিওর লিংকটি সিভির শুরুতে বা কভার লেটারে যোগ করুন।
ভিডিও সিভি নিয়োগকর্তাকে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব বুঝতে দারুণ সাহায্য করে। এটি আপনার যোগাযোগ ও উপস্থাপনার দক্ষতা সরাসরি প্রমাণ করে। মনে রাখবেন, ভিডিও সিভি কখনোই প্রথাগত সিভির বিকল্প নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী সহায়ক অংশ।




















