২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। প্রথমবারের মতো প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাওয়া প্রার্থীদের জন্য শেষ সময়ের প্রস্তুতি ও পরীক্ষা হলের করণীয় নিয়ে জানাচ্ছেন ক্যারিয়ার-বিষয়ক পরামর্শক ও ৩৫তম বিসিএস কর্মকর্তা রবিউল আলম লুইপা।
প্রস্তুতির শেষ সময়ে কী করবেন
এত দিন যা পড়েছেন, সেগুলোই গুছিয়ে নিন, বারবার রিভিশন দিন। খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না হলে নতুন করে কিছু পড়তে যাবেন না। অতিসাম্প্রতিক তথ্য বিসিএস প্রিলিতে আসে না।
মডেল টেস্ট দেওয়ার পরামর্শ
পরীক্ষার আগের এক সপ্তাহ বাসায় সময় ধরে কমপক্ষে ১০টি মডেল টেস্ট দেবেন। বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর মডেল টেস্ট বই বা অনলাইন মোবাইল অ্যাপস থেকে যেটি মানসম্মত, সেটি বেছে নিতে পারেন। একটি মানসম্মত মডেল টেস্টের প্রশ্নে আপনার প্রাপ্ত নম্বর ১২০-১৩০-এর নিচে নেমে গেলে নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
সময় বণ্টনের পরামর্শ
পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ও সঠিক উত্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় বণ্টন। বাসার পরিবেশ আর পরীক্ষার হলের পরিবেশ এক নয়। তাই বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় ১ দশমিক ৫ ঘণ্টায় পরীক্ষা শেষ করার চেষ্টা করুন। এখানে কোন সাবজেক্টের জন্য কত সময় বরাদ্দ রাখবেন, সেটি আগে থেকেই নির্ধারণ করুন। পরীক্ষায় প্রথম ৬০ মিনিটে ১৩৫টি এমসিকিউ (ইংরেজি ৩০ ও গণিত ৩৫ ব্যতীত) এবং শেষ ৬০ মিনিট বাকি ৬৫টি এমসিকিউ (ইংরেজি ৩০ ও গণিত ৩৫) এবং রিভিশনের জন্য রাখতে পারেন।
মানসিক চাপমুক্ত থাকার পরামর্শ
মানসিক চাপমুক্ত থাকার জন্য সাধারণ জ্ঞান বা বাংলা দিয়ে উত্তর শুরু করা সর্বোত্তম। সবশেষে ইংরেজি ও গণিত উত্তর দিলে ভালো। এ ক্ষেত্রে উত্তরদানের সিকোয়েন্স হতে পারে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, বিজ্ঞান, ইংরেজি ও গণিত।
নেগেটিভ মার্কিং এড়ানোর পরামর্শ
পরীক্ষার আগে বাসায় বসে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন। মডেল টেস্টের মাধ্যমে কনফিউজড প্রশ্নগুলো উত্তর করে নেগেটিভ মার্কিং কেমন হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করুন। নেগেটিভ মার্কিং বেশি হলে পরীক্ষার হলে কনফিউজড প্রশ্ন এড়ানোর চেষ্টা করবেন। প্রতি মডেল টেস্টে আগের মডেল টেস্টের চেয়ে কত কম নেগেটিভ মার্কিং হলো কাউন্ট করুন।
পরীক্ষার হলে কী করবেন
যে কলম দিয়ে বৃত্ত ভরাট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেই ব্র্যান্ডের তিনটি কলম আগে থেকেই কালি নরমাল করে রাখুন। মোটা নিবের কলম দ্রুত বৃত্ত ভরাট করতে সাহায্য করে। একাধিক অ্যাডমিট কার্ড প্রিন্ট করে রাখুন। পরীক্ষার হলে মুঠোফোন, ক্যালকুলেটর, হাতঘড়ি বা অন্য কোনো কিছু নিয়ে যাবেন না। ওএমআর শিটের সব তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন, হাজিরা পাতায় অ্যাডমিট কার্ডের অনুরূপ স্বাক্ষর করুন। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রে আগে থেকেই সেট কোড বসানো থাকবে। আপনাকে একই সেট কোডের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, মিলিয়ে নেবেন। প্রশ্নের সিরিয়ালে ক-খ-গ-ঘ পাশাপাশি নাকি ওপর-নিচে সাজানো, সেটি সচেতনভাবে খেয়াল করুন।




















