স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার এমডি সখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এ বছর শেষ নাগাদ দেশের প্রতি উপজেলা হাসপাতালে কার্ডিয়াক ক্যাথিটারাইজেশন (ক্যাথ) ল্যাব স্থাপন করা হবে। তিনি ঢাকার ওসমানী মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে 'বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস' উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনায় উক্ত ঘোষণা দেন। আলোচনায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বর্তমান ছিলেন।
সখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ভুল চিকিৎসা পরীক্ষা এবং ভুল নির্ণয়ের কারণে রোগীদের ভোগান্তি দূর করতে সরকার কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে। নতুন সুবিধাগুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করতে দক্ষ ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসারের উদ্যোগ
মন্ত্রী বলেছেন, দেশের ভবিষ্যতের নেতৃত্ব এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি স্বাস্থ্যকর, দক্ষ এবং সক্ষম তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, 'আমরা বয়স্ক হয়ে উঠছি, তাই আমাদের অবশ্যই একটি যোগ্য এবং দক্ষ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে যাতে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে। আমাদের লক্ষ্য সমাজের সমস্ত অনিয়ম দূর করে একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলা।'
গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসারের জন্য সরকারের উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেছেন, চলমান অর্থবছরে বিস্তৃত কর্মসূচি শুরু হবে যাতে দেশের প্রতি গ্রাম এবং দূরবর্তী অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে।
সমস্ত পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, স্বাস্থ্য সহকারী কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনর্নবীকরণ করা হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে উন্নত স্ক্রিনিং সুবিধা স্থাপন করা হবে।
নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া
মন্ত্রী আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১ লক্ষ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ৮০ হাজার হবেন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী যারা গর্ভাবস্থা এবং প্রসবোত্তর সময়ে মায়েদের দরজায় দরজায় পরামর্শ দেবেন।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, স্বাভাবিক প্রসব উৎসাহিত করা, নবজাতকদের মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো প্রচার করা এবং শিশুদের জন্য যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা।
ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন
সর্দার এমডি সখাওয়াত হোসেন আরও জানান, প্রতি জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়াও, প্রতি উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে যাতে নিম্ন আয়ের রোগীদের ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে চিকিৎসার জন্য যেতে না হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ রাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ এম এ মুহিথ, স্বাস্থ্য সচিব এমডি কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য পরিষেবা মহাপরিচালক প্রফেসর ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মেডিকেল শিক্ষা মহাপরিচালক প্রফেসর ডাঃ নজমুল হোসেন এবং পরিবার পরিকল্পনা মহাপরিচালক ডাঃ জিন্নাত রেহানাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।






























