খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৬,৭৪৮ কৃষকের কৃষি ঋণ মুছে দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, বিভাগের ১০ জেলার এই কৃষকদের ৪১.৮০ কোটি টাকার ঋণ মোচন স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে।
কৃষকদের বিশাল ত্রাণ
বেশ কয়েক দশক ধরে ঋণের বোঝায় চোখ-পানি হয়ে পড়া ছোট কৃষকদের এই ঋণ মোচন অভিযান বড় ত্রাণ। খুলনা বিভাগের কৃষি ব্যাংক দুটি অঞ্চল অফিসে বিভক্ত, যার মধ্যে খুলনা অঞ্চল অফিসের অধীনে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর এবং নড়াইল জেলা রয়েছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়া অঞ্চল অফিসের অধীনে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলা রয়েছে।
কৃষকদের বিভিন্ন ঋণের বিবরণ
খুলনার রূপশা উপজেলার পূর্ব রূপশা ঘাট শাখা থেকে ১৯৯০ সালে ৭,০০০ টাকা ঋণ নেওয়া শামসুর রহমানের উপর জমা হওয়া ব্যজা সহ মোট ১২,১৭১ টাকার ঋণ মুছে দেওয়া হবে। ১৯৯২ সালে ৬,০০০ টাকা ঋণ নেওয়া মোহাম্মদ সোলামান মিনার ৫,০০০ টাকা ফেরত দিয়েও ৫,০৩৮ টাকা বাকি ছিল, তারও ঋণ মুছে দেওয়া হবে। তালিমপুর গ্রামের মমিন উদ্দিন ১৯৮৯ সালে ৬,০০০ টাকা ঋণ নেওয়ায় তার উপর ব্যজা সহ মোট ১১,৭৭৪ টাকার ঋণ মুছে দেওয়া হবে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যা নির্বাচনের সময় পর্যন্ত অমোচনীয় ছিল, সেগুলো নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে মোছা হয়েছে। খুলনা অঞ্চল অফিসের অধীনে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর এবং নড়াইল জেলার ৩০,২৪৮ কৃষকের ঋণ মুছে দেওয়া হবে, যার পরিমাণ ২১.৩২ কোটি টাকা। কুষ্টিয়া অঞ্চল অফিসের অধীনে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ২৬,৫০০ কৃষকের ২০.৪৮ কোটি টাকার ঋণ মুছে দেওয়া হবে।
ঋণ মুছে দেওয়ার পরিমাণ
খুলনা মহানগর এলাকা এবং জেলার উপজেলাগুলোতে ৬,৭৬৭ কৃষকের ঋণ মুছে দেওয়া হবে, যার পরিমাণ ৪.১৩ কোটি টাকা। দুমুরিয়ায় সর্বাধিক ২,৭১১ কৃষক, কয়ড়ায় ১,৪৪৮ এবং ফুলতলা উপজেলায় ৬৭৩ কৃষকের ঋণ মুছে দেওয়া হবে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের তালিকা ইতিমধ্যে অনুমোদনের জন্য প্রধান অফিসে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদনের পর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, ঋণ মোচনের খবর উপকৃত কৃষকদের জানানো হয়েছে। তারা আরও বলেছেন, ঋণ না পরিশোধের জন্য ডিফল্ট ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে আগে দায়ের করা আইনি মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে, ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি ঋণ এবং নির্বাচনের পরে নেওয়া ঋণগুলোর জন্য এই মোচন স্কিম প্রযোজ্য নয়। ৩০ জুন পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলে ২,০৩,০০০ কৃষকের কৃষি ঋণ মোট ২,৬০০ কোটি টাকা ছিল।






























