সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি (শুল্কসংক্রান্ত চুক্তি) আবার পর্যালোচনা করা দরকার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে জোরপূর্বক শ্রম সমস্যার সমাধান হবে না। তাতে আরও বেশি জোরপূর্বক শ্রম বা ‘ফোর্সড লেবার’ বাড়তে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
গত মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বা ইউএসটিআর জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়। এসব দেশের পণ্যে আরও ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের লেন্স দিয়ে দেখার কারণে আমাদের দেশের বাস্তবতাকে হয়তো ঠিকভাবে নেয় না। আমাদের ইটভাটা ও অন্যান্য জায়গায় শিশুশ্রম আছে। বাস্তবতা হলো অনেক সময় পরিবারের প্রয়োজনে শিশুরা কাজে যায়।’ আবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেশে ৩২ লাখ পথশিশু আছে। এখন শিশুশ্রম কমাতে সহায়তা তহবিল না দিয়ে উল্টো রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক বসিয়েছিল ৬০টি দেশের ওপর। মাত্র ৯টি দেশ তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ। তার ওপর অতিরিক্ত ১৯ শতাংশসহ মোট ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসবে। এ নিয়ে আমরা চুক্তি করেছি। এর সঙ্গে ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক যোগ হলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৪৪ শতাংশ।’ অন্যদিকে যারা চুক্তি করেনি, তাদের কিন্তু ১৯ শতাংশ নেই। তাহলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কোথায় দাঁড়াবে, সেটি বিবেচনায় নিতে হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন শুল্ক চুক্তিটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে জানান মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এই চুক্তি অবশ্যই এখন আবার আলোচনা করা দরকার। ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে এটার সমাধান হবে না। তাতে আরও বেশি ফোর্সড লেবার বাড়তে পারে।
















