সরকার এবারের বাজেটে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ২ টাকার কর আরোপের ঘোষণা করেছে। প্রতি হাজার টাকার বিক্রিতে ২ টাকা কর কেটে রাখা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বাজেটে করের আওতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, করের হার বৃদ্ধি নয়; বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ তাঁদের লক্ষ্য। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহে দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। সংগৃহীত এই অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্রমতে, পণ্য কেনার সময় পণ্য সরবরাহকারী বা পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম কর কেটে রেখে সরকারের কোষাগারে জমা দেবেন। অর্থনীতির বড় অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক, তাদের করের আওতায় আনতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাজস্ব কর্মকর্তারা।
প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে স্থানীয় খুচরা মুদিদোকান করের আওতায় আসবে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতা আছেন। তাঁরা করের আওতায় চলে আসবেন।
ক্ষুদ্র পাইকারি ব্যবসায়ীরা করের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। তাঁরা বলছেন, ক্ষুদ্র পাইকারি বিক্রেতাদের মুনাফা সীমিত। সেখানে ২ টাকা কর কীভাবে দেওয়া সম্ভব, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাকিব আহমেদ মাসে ৩০ লাখ টাকার বেশি চাল-ডালসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপণ্য বিক্রি করেন। তিনি বলেন, হাজারে আমরা ২০ টাকার মতো মুনাফা করি; এর মধ্যে দোকান ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ জোগাড় করতে হয়। তার ওপর ২ টাকা কর দিতে হলে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব পড়বে। আমাদের তখন ২ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।
















