চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল ভুল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও গভীর করেছে। তবে বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন বাস্তবতায় চীনের রপ্তানি-আধিপত্য ঠেকানো এবং কৌশলগত উপকরণের সরবরাহে দেশটির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙা হবে।
চীনের চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চীনের অর্থনীতি চাঙা করার জন্য মানুষকে কম সঞ্চয় করে বেশি ভোগে উৎসাহিত করা হলে চীনের আগ্রাসী রপ্তানি নীতির রাশ টেনে ধরা সম্ভব হবে। তবে চীন নাগরিকদের অর্থনৈতিক কল্যাণের চেয়ে ‘চূড়ান্ত ভূরাজনৈতিক আধিপত্য অর্জনের’ লক্ষ্যে কাজ করছে বলে অনেকে মনে করেন।
চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসনকে বাণিজ্যযুদ্ধে আরও নমনীয় হতে চাপ দিয়েছে। চীনের লক্ষ্য ছিল বাজারের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা। তবে চীনের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে ৩০০টির বেশি অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে।
ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অন্যান্য বড় অর্থনীতির প্রথম কাজ হবে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও শিল্প উপকরণের বিকল্প উৎস গড়ে তোলা। তবে এই পথ বন্ধুর এবং সময়ও লাগবে অনেক। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এসব দেশের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
ট্রাম্পের পদ্ধতি নিঃসন্দেহে ভুল। তার চলতি হিসাবের ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যও খুব একটা অর্থ নেই। চীন থেকে আমদানি কমলেও অন্য দেশ থেকে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের পর আরও সুপরিকল্পিত নীতি গ্রহণ করা হলেও অর্থনীতির চাপ এড়ানো যাবে না।
















