মৃত্যুদণ্ড থেকে ফিরে এসেও বেশিরভাগ মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না। অনেকে এখনও মানসিকভাবে ভয়-আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেকে রাতে ঘুমাতে গেলে মনে করেন, এখনও সেই সেলে আছেন। স্বপ্নে ফিরে আসে অন্ধকার ঘর, মৃত্যুভয়। শেখ জাহিদের মতো কেউ কেউ কোনো কাজ পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় জীবনটা যেন তাঁদের থমকে গেছে।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা'
৮ জুন থেকে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনকক্ষে চলছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা'। এ প্রদর্শনীতে মৃত্যুদণ্ড থেকে ফিরে আসা ১৩টি পরিবারের জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীর ছবিগুলো কেবল কয়েকজন মানুষের মুক্তির গল্প নয়; এতে আছে বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, মিথ্যা মামলা, পুলিশি নির্যাতন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মৃত্যুভয়ের মধ্যে বছরের পর বছর বেঁচে থাকার নির্মম বাস্তবতার গল্প।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, পুলিশি নির্যাতন, স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা, ঘুষ, দালাল এবং আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে নিঃস্ব হয়ে পড়া সবগুলো অভিজ্ঞতা তাঁদের জীবনে ছিল। তাঁরা কনডেমড সেলে থাকার হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেছেন।
আলোচনায় বিচারপ্রক্রিয়ার সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে
প্রদর্শনী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে কনডেমড সেলে থাকতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানের পরিবেশ অমানবিক। আইনের সংশোধন করা ও নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আইন করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে।



















