বস্ত্র ও জুট রাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলম সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার বাইতারা গ্রামে বুনকরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, মৌলিক বুনকরদের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং পরামর্শ বিবেচনায় হস্তশিল্প শিল্প উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, হস্তশিল্প শিল্প উন্নয়ন, বুনকরদের সমস্যা, ঋণ সুবিধা, কাঁচামালের মূল্য এবং বিপণন নিয়ে বুনকররা তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং নীতি মৌলিক বুনকরদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাঁদের প্রকৃত সমস্যা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ হস্তশিল্প শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্র।
শরিফুল বলেন, এ অঞ্চলের হস্তশিল্প শিল্পের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য শিল্পটিকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজ করছে। তিনি বলেন, বুনকররা সুতা, রঞ্জক, কাঁচামালের মূল্য, পণ্যের নিরপেক্ষ মূল্য, বাজার পরিচালনা এবং মধ্যস্থতাকারীদের বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন।
রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে যাতে আসল বুনকর এবং বুনকর সংঘের সদস্যরা সরকারের সহায়তার প্রকৃত লাভ পান। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ সদর, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর এবং বেলকুচি অঞ্চলে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই ঋণ সুবিধা নরম শর্তে চার শতাংশ সুদের হারে প্রদান করা হচ্ছে।
শরিফুল আলম আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও বুনকরদের ঋণ সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে ঋণ অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং সময়মতো পরিশোধের জন্য বুনকরদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জে নতুন নির্মিত বুনকর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মৌলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়াও প্রশিক্ষাণদান প্রাপ্তদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রমন্ত্রী আশা করেন, সরকার এবং বুনকরদের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের প্রাচীন বুনন শিল্প আবার একটি সমৃদ্ধ অবস্থানে ফিরে আসবে। অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও জুট সচিব শরফউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ হস্তশিল্প বোর্ডের বরিষ্ঠ কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বুনকর সংঘের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





























