বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমুদ্রীয় দায়বদ্ধতা কনভেনশনগুলোতে যোগদান করেছে যাতে সমুদ্রীয় পরিবেশ রক্ষা, উপকূলীয় জনসংখ্যার সুরক্ষা এবং টেকসই সমুদ্রীয় বাণিজ্য নিশ্চিত হয়।
শিপিং মন্ত্রক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রীয় দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগদান করেছে। শিপিং মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সংস্থা (আইএমও) সচিবালয়ে আইএমও সাধারণ সচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজের কাছে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেছেন।
এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের সমুদ্রীয় আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড ও শ্রেষ্ঠ অভ্যাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
শিপিং মন্ত্রকের এক প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, এই কনভেনশনগুলোতে যোগদান নিরাপদ জাহাজচলাচল, সমুদ্রীয় পরিবেশ সুরক্ষা এবং দায়বদ্ধতামূলক সমুদ্রীয় পরিচালনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশ যে তিনটি কনভেনশন অনুমোদন করেছে তা হলো- ১৯৯২ সালের তেল দূষণ ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক নাগরিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনের প্রোটোকল, ২০০১ সালের বাঙ্কার তেল দূষণ ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক নাগরিক দায়বদ্ধতা কনভেনশন এবং ২০০৭ সালের নাইরোবি আন্তর্জাতিক ধ্বংসাবশেষ অপসারণ কনভেনশন।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক জল বা পোতাশ্রয়ে প্রতিদিন শত শত জাহাজ চলাচল করে। এই জাহাজচলাচল তেল ছড়িয়ে পড়া, বাঙ্কার জ্বালানি দূষণ এবং জাহাজ ধ্বংসের ঝুঁকি বহন করে, যা নাবিকত্ব এবং সমুদ্রীয় জীববৈচিত্র্যকে হুমকির সম্মুখীন করে।
এই কনভেনশনগুলো এই ঘটনাগুলোর জন্য দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে এবং বাধ্যতামূলক বীমা আবরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ফলে, ক্ষতিপূরণ নিরাপদ আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে ব্যবস্থাগত আইনী কার্যবিধির উপর নির্ভর না করে।
এই অনুমোদন দেশের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধাও আনবে। বাংলাদেশী পতাকাধারী জাহাজগুলোকে আর বিদেশী নৌ ব্যবস্থাপনা থেকে কনভেনশন সার্টিফিকেট নিতে হবে না, যা সময় এবং বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হ্রাস করবে।
এই কনভেনশনগুলোর সাথে অনুগত হওয়া বাংলাদেশী পতাকাধারী জাহাজগুলোর আন্তর্জাতিক চার্টার, বীমাকারী এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে, বাণিজ্যিক বিলম্ব কমবে এবং বিদেশী বন্দরগুলোতে কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত তদন্ত কমবে।
১০০ টিরও বেশি দেশ এই কনভেনশনগুলোতে যোগ দিয়েছে। এই অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার সমুদ্রীয় কাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।
সমুদ্রীয় চলাচলের বৃদ্ধি, বন্দর কার্যক্রমের সম্প্রসার এবং উপকূলীয় উন্নয়নের পটভূমিতে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে একটি দায়বদ্ধতামূলক সমুদ্রীয় জাতি হিসেবে শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।






























