জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) অস্থায়ী সদস্যপদে গত বুধবার জয়ী হতে ব্যর্থ হয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাদেফুল এর পেছনে একটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়াই জার্মানির এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটে হারার কারণ হতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মোট সদস্যরাষ্ট্র হচ্ছে ১৫। এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ। অস্থায়ী সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। ‘পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য’ গ্রুপের জন্য বরাদ্দ দুটি পদে লড়েছিল জার্মানি। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত আসন দুটি ওই দুই দেশই জিতে নিয়েছে। সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে জার্মানি ১০৪টি ভোট পেয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে যা ২৩ ভোট কম।
কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রিটা পার্সি বলেন, ‘বিষয়টা পরিষ্কার করা যাক। ইউক্রেনকে জার্মানির সমর্থন দেওয়ার সঙ্গে এই হারের কোনো সম্পর্ক নেই। যেসব দেশ জার্মানিকে হারিয়েছে, সেই পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়াও কিন্তু ইউক্রেনকে কম সমর্থন দেয় না।’
পার্সি আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধনের প্রতি জার্মানির সমর্থনের পুরোপুরি সম্পর্ক রয়েছে। ইসরায়েলকে বাঁচাতে জার্মান সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদকে অবজ্ঞা করতে পিছপা হয়নি, এই হার সেটিরই ফল। ইসরায়েলি অপরাধের প্রতি জার্মানির এই অন্ধ সমর্থনই নিরাপত্তা পরিষদে তাদের আসন কেড়ে নিয়েছে। আর এমনটাই হওয়া উচিত ছিল।’
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) নিউইয়র্ক কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক ক্রেইগ মোখাইবারও এই হারের সঙ্গে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে জার্মানির অবস্থানকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।



















