ব্রাজিলের জাতীয় দলের নয় নম্বর জার্সিটি একসময় রোনালদো নাজারিওর জার্সি ছিল। তারপর থেকে ব্রাজিলের জার্সিতে সেই নম্বরটি আর ফিরে আসেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ম্যাথেউস কুনিয়া এই জার্সিটি পরতে চলেছেন। তবে তিনি প্রথাগত স্ট্রাইকার নন।
রোনালদোর পর ব্রাজিলের জার্সিতে নয় নম্বর জার্সিটি কয়েকজন খেলোয়াড় পরেছেন। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফ্রেড এই জার্সিটি পরেছিলেন কিন্তু তার গোল করার ক্ষমতা ছিল না। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্যাব্রিয়েল জেসুস নয় নম্বর জার্সি পরেছিলেন কিন্তু তিনিও গোল করতে পারেননি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে রিচার্লিসন নয় নম্বর জার্সি পরেছিলেন কিন্তু তিনিও গোল করতে পারেননি।
ম্যাথেউস কুনিয়া স্পেন ও জার্মানি ঘুরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব উলভসে আসার পরই মূলত পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। দুর্দান্ত ড্রিবলিং স্কিল আর নজরকাড়া সব গোলের সৌজন্যে দ্রুতই নজরে পড়েন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। তবে ইউনাইটেডেও তিনি ‘আউট অ্যান্ড আউট’ স্ট্রাইকার নন, খেলেছেন মূলত বাঁ প্রান্ত ধরে। নিজেকে তিনি পরিচয় দিতে ভালোবাসেন ‘নাইন পয়েন্ট হাফ’ হিসেবে—যা মূলত নাম্বার নাইন এবং নাম্বার টেনের এক চমৎকার মিশেল।
ক্লাব ফুটবলে আলো ছড়ালেও ব্রাজিলের জার্সিতে কুনিয়ার পারফরম্যান্সকে দশে কত দেওয়া যাবে, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। দেশের হয়ে ২৩ ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র ১টি! তারপরও ক্লাব ফর্মের ওপর ভরসা রেখে সেলেসাওদের শুরুর একাদশে হয়তো এই মুহূর্তে তাঁর ওপরই আস্থা রাখতে যাচ্ছেন কোচ। যদিও বর্তমান স্কোয়াডে সত্যিকারের প্রথাগত নাম্বার নাইন বলতে আছেন ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো। তবে প্রথম একাদশে কুনিয়াকে টপকে থিয়াগোর জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনো বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন রয়েই গেছে।
ইতিহাস বলে ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে নাম্বার নাইনকে জাদুকরি ভূমিকা রাখতেই হবে। ২০০২ বিশ্বকাপে সেটা করে দেখিয়েছেন রোনালদো, আবার ৯ নম্বর জার্সি না পরেও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে সেই অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখেছিলেন রোমারিও। এখন প্রশ্ন হলো কুনিয়া কি পারবেন রোনালদো বা রোমারিওদের সেই সোনালি উত্তরাধিকার ফিরিয়ে আনতে? নাকি ‘নাইন পয়েন্ট হাফ’ হয়েই থেকে যাবেন!



















