# মায়াবী ‘নয়’ নম্বরের খোঁজে ব্রাজিল: কুনিয়া কি পূরণ করতে পারবেন রোনালদোর জায়গা?

*ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে রোনালদোর পর নয় নম্বর জার্সি পরে কেউই তার মতো জাদুকরি ভূমিকা রাখতে পারেনি।*

১০ জুন, ২০২৬ · খেলা

## এক নজরে

- রোনালদোর পর ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সি পরে কেউই তার মতো জাদুকরি ভূমিকা রাখতে পারেনি।
- ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সির ভার ম্যাথেউস কুনিয়ার কাঁধে।
- কুনিয়া কি পারবেন রোনালদো বা রোমারিওদের সেই সোনালি উত্তরাধিকার ফিরিয়ে আনতে?

নব্বইয়ের দশক বা তার আগে যাদের জন্ম, ‘ব্রাজিলের নাম্বার নাইন’ বললেই তাদের চোখের সামনে একটা খুব চেনা ছবি ভেসে ওঠে। রোনালদো নাজারিও—ফুটবল ইতিহাসে যিনি ‘আর নাইন’ হিসেবে খ্যাত। রোনালদোর পর কতজন এলেন, গেলেন। কিন্তু ওই চেনা ঘরানার ‘নম্বর নয়’ আর ফিরে আসেনি সেলেসাওদের জার্সিতে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ।

ফুটবলপ্রেমীদের মনে তাই অবধারিত প্রশ্ন—এবার ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সির ভার যাঁর কাঁধে, সেই ম্যাথেউস কুনিয়া কি পারবেন কোটি ভক্তের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাতে? রোনালদোর বিদায়ের পর ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) মিশন যেমন কেবলই এক অধরা স্বপ্ন হয়ে থেকে গেছে, তেমনি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হাপিত্যেশ করতে হয়েছে একজন জাত স্ট্রাইকারের জন্য।

২০০৬ বিশ্বকাপে নিজের ছায়া হয়ে থাকার পরও রোনালদো করেছিলেন ৩ গোল। চার বছর পর ২০১০ বিশ্বকাপে লুইস ফ্যাবিয়ানো চেষ্টা করেছিলেন বটে। গ্রুপ পর্বে জোড়া গোল আর শেষ ১৬-তে আরও এক গোল করেও দলকে পার করতে পারেননি সেই শেষ আটের দেয়াল।

২০১৪ বিশ্বকাপে ফ্রেডের গায়ে ব্রাজিলের বিখ্যাত নয় নম্বর জার্সি উঠেছিল। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পা থেকে এসেছিল মোটে ১ গোল। মিনেইরোর সেই অভিশপ্ত সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার রাতে জার্সিতে মুখ ঢাকা ফ্রেডের সেই অসহায় ছবিটাই যেন হয়ে আছে ব্রাজিলের সেবারের ফুটবল ট্র্যাজেডির বিজ্ঞাপন।

২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্ট্রাইকার পজিশনে এক নতুন ঘরানার জন্ম হয়। গ্যাব্রিয়েল জেসুস স্ট্রাইকার হয়েও নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করতেন, মাঝমাঠের সঙ্গে বলের সংযোগ ঘটাতেন। কিন্তু বিধাতা যাকে গোল করার তুলি দিয়ে পাঠিয়েছেন, তিনি যদি রংতুলি ফেলে ঘর গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তবে ক্যানভাস ফুটবে কী করে? আসল কাজটাই করতে পারলেন না জেসুস। ৫ ম্যাচে কোনো গোল না করেই রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ করলেন তিনি।

চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সি গায়ে জড়ালেন রিচার্লিসন। দোহার মরুভূমিতে রিচার্লিসনের শুরুটা অবশ্য রূপকথার মতোই ছিল। সার্বিয়ার বিপক্ষে তাঁর সেই চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিকটি কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দৃশ্য। কিন্তু বিধি বাম! কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন তিনি। ব্রাজিলের কান্নার রাতে রিচার্লিসনকেও মাঠ ছাড়তে হয়েছিল কোনো গোল না করেই, বদলি খেলোয়াড় হিসেবে।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সিটা যিনি পাচ্ছেন, রসিকতা হলো—তিনি আদতে প্রথাগত স্ট্রাইকারই নন! ম্যাথেউস কুনিয়ার কাতারে যাওয়ার সুযোগ হতে পারত, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। স্পেন ও জার্মানি ঘুরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব উলভসে আসার পরই মূলত পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন তিনি।

দুর্দান্ত ড্রিবলিং স্কিল আর নজরকাড়া সব গোলের সৌজন্যে দ্রুতই নজরে পড়েন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। প্রিমিয়ার লিগের শুরুতে কিছুটা খাবি খেলেও মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন কুনিয়া। তবে ইউনাইটেডেও তিনি ‘আউট অ্যান্ড আউট’ স্ট্রাইকার নন, খেলেছেন মূলত বাঁ প্রান্ত ধরে। নিজেকে তিনি পরিচয় দিতে ভালোবাসেন ‘নাইন পয়েন্ট হাফ’ হিসেবে—যা মূলত নাম্বার নাইন এবং নাম্বার টেনের এক চমৎকার মিশেল।

ক্লাব ফুটবলে আলো ছড়ালেও ব্রাজিলের জার্সিতে কুনিয়ার পারফরম্যান্সকে দশে কত দেওয়া যাবে, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। দেশের হয়ে ২৩ ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র ১টি! তারপরও ক্লাব ফর্মের ওপর ভরসা রেখে সেলেসাওদের শুরুর একাদশে হয়তো এই মুহূর্তে তাঁর ওপরই আস্থা রাখতে যাচ্ছেন কোচ। যদিও বর্তমান স্কোয়াডে সত্যিকারের প্রথাগত নাম্বার নাইন বলতে আছেন ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো। তবে প্রথম একাদশে কুনিয়াকে টপকে থিয়াগোর জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনো বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন রয়েই গেছে।

ইতিহাস বলে ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে নাম্বার নাইনকে জাদুকরি ভূমিকা রাখতেই হবে। ২০০২ বিশ্বকাপে সেটা করে দেখিয়েছেন রোনালদো, আবার ৯ নম্বর জার্সি না পরেও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে সেই অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখেছিলেন রোমারিও। এখন প্রশ্ন হলো কুনিয়া কি পারবেন রোনালদো বা রোমারিওদের সেই সোনালি উত্তরাধিকার ফিরিয়ে আনতে? নাকি ‘নাইন পয়েন্ট হাফ’ হয়েই থেকে যাবেন!

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/sports/mayabee-noi-number-er-khonje-brazil-kunia-ki-pareben-ronaldo-hote
