# ১৫ বছর পর বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওডিআই সিরিজ: দুই দশকের অপেক্ষার পরিণতি কি?

*১৫ বছর পর আজ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলা হবে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · খেলা

## এক নজরে

- ১৫ বছর পর বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলা হবে
- বাংলাদেশ ওয়ানডেতে সাফল্যের রেলগাড়িতে চড়ে অনেকটুকু এগিয়ে গেছে
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২২ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি

১৫ বছর পর আজ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলা হবে। এ সময়ে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে সাফল্যের রেলগাড়িতে চড়ে অনেকটুকু এগিয়ে গেছে। তবে ওয়ানডেতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়া হয়নি। ২০১১ সালের ওই সিরিজের পর আইসিসির টুর্নামেন্টেও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যে তিনবার দেখা হয়েছে, তার দুটিতে হারতে হয়েছে, একটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে।

অবশ্য শুধু গত দেড় দশকে কেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২২ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ই আছে কেবল একটি। কার্ডিফের সেই স্মৃতিটা যে ভুলে যাওয়ার কথা নয় কারোরই!

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের মাঝের সময়ে বাংলাদেশ বদলে গেছে অনেকটা। ঘরের মাঠে সর্বশেষ চারটা সিরিজেই জিতেছে তারা। একসময় স্পিনারদের ওপর নির্ভর করা দলে এখন পেসাররাই বেশি ভূমিকা রাখছেন জয়ে।

দুই সিরিজে ১৬ উইকেট পাওয়া নাহিদ রানা তো পৃথিবীজুড়েই এখন আলোচনায়। এ বছর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ওয়ানডে হয়েছে ছয়টি—সেখানে দুই দল মিলিয়ে মাত্র ২২.৬০ গড়ে ৬৯ উইকেট নিয়েছেন পেসাররা, ৩৫.৫০ গড়ে স্পিনারদের উইকেট কেবল ২৬টি।

তবে ওসব সাফল্য এসেছে ঘরের মাঠে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার সাহস দেখাতে পারায়। সারা বছর পেস সহায়ক উইকেটে খেলা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও কি বাংলাদেশ এ রকম সাহস দেখাবে? দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের মুখেই তা শুনুন, ‘আমরা চেষ্টা করব ভালো উইকেটে খেলার জন্য।’

অস্ট্রেলিয়ার হাতেও অবশ্য বাংলাদেশকে ভালো উইকেটে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো অস্ত্র নেই খুব একটা। মিচেল স্টার্ক–প্যাট কামিন্সের মতো তারকাদের ছাড়াই তারা বাংলাদেশ খেলতে এসেছে। সিরিজ শুরুর এক দিন আগে এই সিরিজের অধিনায়ক মিচেল মার্শ চোট আর ট্রাভিস হেড ছিটকে গেছেন পারিবারিক কারণে।

পেস বোলিংয়ে তাদের আছে অভিজ্ঞতার ঘাটতিও। ২০ ওয়ানডে খেলা নাথান এলিসই সেখানে সবচেয়ে বড় ভরসা অস্ট্রেলিয়ার জন্য। সব মিলিয়ে এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে বাড়তি চ্যালেঞ্জের সামনে পড়বেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মার্শের বদলে অজিদের অধিনায়কত্ব পাওয়া জশ ইংলিস বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। তার ওপর তারা ঘরের মাঠে খেলবে। আমাদের অনেকের এখানে খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। কিন্তু আমাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস আছে।’

জেতার মধ্যে থাকলেও বাংলাদেশেরও যে সংকট নেই, তা নয়। দুশ্চিন্তাটা বেশি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। গত দুই সিরিজে তা কাটিয়ে উঠার ইঙ্গিত দিলেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না। চার বছর পর তাই ওয়ানডে দলে ফেরানো হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনকে, একাদশেও সুযোগ মিলতে পারে তাঁর।

ডানহাতি ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অফ স্পিন—মোসাদ্দেক আর অধিনায়ক মিরাজের খেলার ধরন একই রকম। তবে কাল সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ জানিয়ে গেছেন, এটা কোনো সমস্যা হবে না তাঁদের জন্য। মোসাদ্দেক যে ৪৩টি ওয়ানডে খেলেছেন, তাঁর ২৭টিতে ছিলেন মিরাজও। দুজন একসঙ্গে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টেও।

এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৭ ইনিংসে ৬৭.৩৩ গড় ও ১৩৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৩৩৬ রান করেছেন মোসাদ্দেক, আছে ১২ উইকেটও। লিগে ৮ ইনিংসে ৫২৮ রান করেছেন তাওহিদ হৃদয়, ৩ ম্যাচ খেলা নাজমুলও একটিতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ৫০ ওভারের ম্যাচে তাঁদের এমন পারফরম্যান্স আশা দেখাচ্ছে অধিনায়ক মিরাজকেও, ‘আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী এ জন্য যে সবাই অনেক ভালো ফর্মে আছে। ব্যাটসম্যানরা, বোলাররা খুব ভালো ছন্দে আছে। প্রিমিয়ার লিগে সবাই খুব ভালো খেলেছে।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে না পারার ঝুঁকি বাংলাদেশ কিছুটা কমিয়ে এনেছে টানা তিন সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে। তবু এখনো পা হড়কানোর সুযোগ নেই। তবে এর মধ্যেই আগামী বছরের বিশ্বকাপের জন্যও তৈরি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দুটি চ্যালেঞ্জই সমানতালে সামলাতে চান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে তাদের প্রথম পরীক্ষা আজ।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/sports/bangladesh-vs-australia-one-day-series-after-15-years
