# হলুদ আর আকাশি-নীলের গল্প: আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প

*আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক লেনদেনের মতো।*

১৩ জুন, ২০২৬ · খেলা

## এক নজরে

- আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প
- মেসি ও নেইমারের ভূমিকা
- গ্রুপ পর্বের সমীকরণ ও প্রত্যাশা

আর্জেন্টিনার লা আলবিসেলেস্টি ও ব্রাজিলের সেলেসাও দুটি রঙের মাধ্যমে বাঙালি জীবনের এক অদ্ভুত, অমীমাংসিত মনস্তাত্ত্বিক লেনদেনের গল্প বলে। শৈশবের কোনো এক সন্ধ্যায় পুরোনো টেলিভিশনের সামনে বসে কিংবা মাঝরাতে চোখ কচলাতে কচলাতে খেলা দেখতে ঘুম থেকে উঠে প্রথম যে ফুটবল-নায়কের প্রেমে পড়া, সেই প্রেম আজীবন এক অলিখিত দাসত্বে রূপ নেয়।

এই প্রেম কোনো যুক্তি মানে না, কোনো পরিসংখ্যানের তোয়াক্কা করে না। আর তাই তো ২৪ বছর ট্রফি না পেয়েও একটা ছেলে বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের পাঁচ তারকার জার্সিতে ইস্তিরি করে কিংবা ৩৯ বছরের এক ‘বুড়ো জাদুকরে’র পায়ের পেশির টানে অনেক তরুণের রাতের ঘুম উড়ে যায়।

উত্তর আমেরিকার তিন দেশে যখন আরেকটি ফুটবল মহোৎসবের দামামা বাজছে, তখন বুয়েনস এইরেস থেকে রিও ডি জেনিরো হয়ে ঢাকার অলিগলি—সব রুটের ট্রেন এসে থামছে এক অনন্ত সংশয় আর সম্ভাবনার স্টেশনে।

## আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি

আলাবামার অবার্নের সেই দৃশ্যপটে ফেরা যাক। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের ৭০ মিনিট। মাঠের এক পাশে চতুর্থ অফিশিয়াল ডিজিটাল বোর্ডটা তুললেন, গ্যালারিতে তখন এক অদ্ভুত নীরবতা। সবুজ ঘাসে পা রাখলেন লিওনেল মেসি। পেনাল্টি স্পট থেকে যখন বলটা জালের এক কোণে আশ্রয় নিল, ধারাভাষ্যকারের চিৎকারের আড়ালে যেন কোটি কোটি মানুষের এক দীর্ঘ স্বস্তির নিশ্বাস। ক্লাব আর দেশ মিলিয়ে ৯১১তম গোল।

অথচ এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে যখন মেসি তাঁর বাঁ হ্যামস্ট্রিং চেপে ধরে টানেলের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন পুরো আর্জেন্টিনার বুকে যেন একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল, কাতার সংস্করণের সেই রূপকথা কি তবে এবার এক ট্র্যাজিক অপেরা দিয়ে শেষ হবে?

স্কালোনি অবশ্য দ্রুতই আশ্বস্ত করেছেন, মাংসপেশি ছেঁড়েনি। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ২০ মিনিট আসলে এক মহড়া—মেসি প্রস্তুত।

## ব্রাজিলের চ্যালেঞ্জ

একটু চোখ ফেরানো যাক সান্তোসের সেই বিষাদমাখা রাজপুত্রের দিকে। ফুটবল ইতিহাসে নেইমার জুনিয়র নামটা সম্ভবত এক দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাসের সমার্থক। ২০১৫ থেকে ২০২৫—মাত্র ১০ বছরে ৩৩ বার ইনজুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এক শরীর।

বিশ্বকাপের ঠিক আগে সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে কাফ মাসলের গ্রেড-টু চোট নিয়ে যখন তিনি মাঠ ছাড়লেন, মনে হলো ভাগ্যের দেবী তাঁর দিকে তাকিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হাসছেন।

তবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সর্বশেষ এমআরআই রিপোর্ট বলছে, ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে তিনি মাঠে নামতেও পারেন।

## সমীকরণ ও প্রত্যাশা

গ্রুপ পর্বের সমীকরণ বলছে, সি গ্রুপে ব্রাজিল লড়বে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। আর জে গ্রুপে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। কাগজ-কলমে দুই পরাশক্তিই নিজ নিজ গ্রুপে পরিষ্কার ফেবারিট।

ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরন্তন প্রশ্ন—কখন হবে সেই ‘সুপার ক্লাসিকো’? সমীকরণ খুব সহজ। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে এগোয়, তবে সেমিফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ মহাকাব্যিক সেই লড়াই দেখতে হলে ফুটবল–বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত শেষ চার পর্যন্ত।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/sports/argentina-brazil-football-rivalry
