# ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে ‘তাসবিহে ফাতিমি’: এক অপার্থিব উপহার

*ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে নবীজির কন্যা হজরত ফাতিমার জীবন থেকে শিক্ষা নিন।*

১৩ জুন, ২০২৬ · ধর্ম

## এক নজরে

- ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে তাসবিহে ফাতিমি পাঠ করুন।
- নবীজির কন্যা হজরত ফাতিমার জীবন থেকে শিক্ষা নিন।
- তাসবিহে ফাতিমি পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে প্রশান্তি ও শক্তি দান করবেন।

ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে নবীজির কন্যা হজরত ফাতিমার জীবন থেকে শিক্ষা নিন। নবীজির অতি আদরের কন্যা হজরত ফাতিমার জীবনের একটি ঘটনা থেকে আমরা শিখতে পারি যে ক্লান্তি ও অবসাদের সময় আল্লাহর জিকিরই অনেক সময় অপার্থিব শক্তি ও প্রশান্তি দিতে পারে।

বিয়ের পর নতুন পথ চলতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিক সমঝোতা করে নিয়েছিলেন। আলী (রা.) ঘরের বাইরের কাজগুলো করতেন, আর ফাতিমা (রা.) দেখতেন ঘরের ভেতরের সমস্ত বিষয়। তাই সংসারের সব কাজ তিনি একাই করতেন এবং অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গেই করতেন।

তবে যেহেতু কাজগুলো ছিল কায়িক পরিশ্রমের, তাই তাঁর খুব কষ্ট হতো। সে যুগে তো আর এ যুগের মতো এত প্রাচুর্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। তিনি দূরবর্তী কূপ থেকে চামড়ার ব্যাগে (মশক) করে পানি এনে ঘরের প্রয়োজন মেটাতেন।

বারবার ভারী মশক বহন করার ফলে তাঁর বুকে ও পিঠে দাগ পড়ে গিয়েছিল। এমনকি এত বেশি গম বা যবের ঘানি টানতেন যে হাত দিয়ে শক্ত করে সেই জাঁতার হাতল ধরার কারণে তাঁর হাতের তালুতে ফোসকা ও কালো দাগ পড়ে গিয়েছিল।

কাজের কষ্ট ও শারীরিক ক্লান্তি একসময় এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে আলী (রা.) তাঁকে নবীজির কাছে একজন খাদেম বা সাহায্যকারী চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বললেন, ‘তুমি যদি তোমার বাবার কাছে গিয়ে একজন খাদেম চেয়ে নাও, তবে ভালো হয়। এতে তোমার কাজকর্ম করতে সুবিধা হবে।’

বাবার প্রতি অসীম ভালোবাসা আর আবদার নিয়ে ফাতিমা (রা.) নবীজির দরবারে গেলেন। কিন্তু সেখানে অনেকের ভিড় থাকায় লজ্জায় কিছু না বলেই মুখ বুজে ফিরে চলে এসেছিলেন। পরদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই আদরের মেয়ের বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘গতকাল তুমি কী প্রয়োজনে গিয়েছিলে?’

ফাতিমা (রা.) লজ্জায় চুপ করে রইলেন। তখন আলী (রা.) নিজেই সব খুলে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, চাক্কি পিষতে পিষতে ফাতিমার হাতে দাগ পড়ে গেছে, পানির মশক বহন করতে করতে তার বুকে দাগ হয়ে গেছে। সংসারের কাজ করতে তার খুব কষ্ট হয়। তাই আমিই তাকে বলেছিলাম আপনার কাছ থেকে একজন সাহায্যকারী চেয়ে নিতে।’

ফাতিমার আবদারের উত্তরে রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় বলব না, যা তোমাদের জন্য একজন খাদেম বা সাহায্যকারীর চেয়েও অনেক অনেক উত্তম?’ এরপর তিনি রাতে ঘুমানোর আগে ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়তে বললেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৬১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২৭)

এই জিকিরটিই ইসলামি ইতিহাসে ‘তাসবিহে ফাতিমি’ নামে সুপরিচিত। নবীজি প্রিয় কন্যা ফাতিমাকে কোনো পার্থিব সাহায্যকারী দেননি; বরং এমন এক অনন্য আমল দিয়েছিলেন, যা সরাসরি মানুষের আত্মায় এবং শরীরে ঐশ্বরিক শক্তি জোগাতে পারে।

আলেমগণ বলেন, যে ব্যক্তি ক্লান্তি ও অবসাদের সময়ে পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে এই তাসবিহ নিয়মিত পাঠ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে প্রশান্তি, কাজে বরকত এবং দায়িত্ব পালনের অলৌকিক শক্তি দান করেন। (ইবনে হাজার আল-আসকালানি, ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি, ১১/১১৯, দারুল মারেফাহ, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি)

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/religion/tasbihe-fatimiya-tiredness-depression
