# জগদ্ধাত্রী: দেবতাদের অহংকার ভেঙে দেবী জগদ্ধাত্রীর মহিমা প্রতিষ্ঠা

*দেবতাদের অহংকার ভেঙেছিলেন জগদ্ধাত্রী, দেবী দুর্গার আরেক রূপ জগদ্ধাত্রীর মহাশক্তি দেখে দেবতারা হতবাক হয়েছিলেন।*

১৩ জুন, ২০২৬ · ধর্ম

## এক নজরে

- জগদ্ধাত্রী হলেন দেবী দুর্গার আরেক রূপ।
- মহিষাসুর বধের পর দেবতারা অহংকারে ভরে উঠলে দেবী জগদ্ধাত্রী তাঁদের শক্তি পরীক্ষা করেছিলেন।
- দেবতারা একটি তৃণখণ্ড আটকাতেও ব্যর্থ হলে দেবী জগদ্ধাত্রী তাঁদের শক্তির কথা জানতে চাইলেন।

দেবতাদের অহংকার ভেঙেছিলেন জগদ্ধাত্রী। দেবী দুর্গার আরেক রূপ জগদ্ধাত্রীর মহাশক্তি দেখে দেবতারা হতবাক হয়েছিলেন। মহিষাসুর বধের পর দেবতারা অহংকারে ভরে উঠলে দেবী জগদ্ধাত্রী তাঁদের শক্তি পরীক্ষা করেছিলেন। দেবতারা একটি তৃণখণ্ড আটকাতেও ব্যর্থ হলে দেবী জগদ্ধাত্রী তাঁদের শক্তির কথা জানতে চাইলেন।

জগদ্ধাত্রী নামের মধ্যেই জগতকে ধারণ করার ইঙ্গিত রয়েছে। বর্ষাশেষে পর স্বর্গে যখন অসুরদের ভয়ানক তাণ্ডব চলছে, স্বর্গরাজ্যের অধিবাসী দেবদেবীরা যখন সেই তাণ্ডবলীলায় নাজেহাল ওপর্যুদস্ত, তখন সিংহবাহিনী মহিষাসুরমর্দিনীরূপে দেবী দুর্গা অসুরদের নিধন করতে রণক্ষেত্রে নেমেছিলেন। স্বর্গমর্ত্যপাতাল সেদিন কেঁপে উঠেছিল এই মহাযুদ্ধে। শেষে দশভূজা দেবী দুর্গার কাছে পরাস্ত হন মহিষাসুর। অবশেষে স্বর্গ সেদিন শান্ত হয়।

পুরাণ বলছে, মহিষাসুর বধের পর স্বর্গের দেবতারা আনন্দে শুধু আত্মহারাই হননি, তারা তখন খুব অহংকারী হয়ে ওঠেন। তারা তখন ভুলেই গেছিলেন কার মায়ায় এবং শক্তিতে স্বর্গের দেবতারা পরাক্রমশালী অসুরদের পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারা আনন্দে ভুলেই যান যে দেবী জগদ্ধাত্রীর শক্তিতেই তারা এত শক্তিশালী হয়েছেন। এই দেবী জগদ্ধাত্রী হলেন দুর্গারই আরেক রূপ। তিনিও দুর্গার মতো সিংহবাহিনী, তবে দশভূজা নন। চতুর্ভূজা।

দেবতারা যখন আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন, দেবী জগদ্ধাত্রী একদিন ঠিক করলেন যে দেবতাদের এই অহং বিনাশ করতে হবে। সরাসরি তো আর তাঁদের শক্তি পরীক্ষা নিতে পারবেন না। ফলে কৌশলের মাধ্যমে তাঁকে সেই পরীক্ষা নিতে হলো। আসলে স্বর্গের দেবতারা, ভাবতেন দেবী দুর্গা তাঁদেরই সবার সম্মিলিত রূপ, তাই মহিষাসুরকে নিধনের কৃতিত্ব আসলে কমবেশি সকলেরই।

তাই অসুরবধের পর যখন অহংকারে দেবতাদের পা যেন আর স্বর্গের মাটিতে পড়ছিল না তখন কার কেমন শক্তি দেবী জগদ্ধাত্রী প্রত্যেককে তা পরীক্ষা করে বুঝিয়ে দেওয়া শুরু করলেন। দেবতাদের অহংকার চূর্ণ করতে এবং তাঁদের শক্তি পরীক্ষা করতে দেবী জগদ্ধাত্রী তখন তাঁদের দিকে একটি তৃণখণ্ড ছুঁড়ে দিলেন। কী আশ্চর্য! দেখা গেল ইন্দ্র, অগ্নি, বায়ু বা বরুণ দেবতাদের কেউই সেই তৃণখণ্ডটিকে নিজেদের শক্তি দিয়ে আটকাতে পারছেন না। সকলেই চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ।

সনাতন ধর্মে দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী বা সরস্বতী পূজার মতো জগদ্ধাত্রী পূজা তত বেশি জনপ্রিয় না হলেও বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে বেশ অনেককাল আগে থেকেই ইতিহাসের পাতায় জগদ্ধাত্রী পূজার সংবাদ পাওয়া যায়। খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতকে সনাতন ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের আখরগ্রন্থ জীমূতবাহন রচিত কালবিবেক গ্রন্থে দেখা যায় কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ। বরিশালে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মাটি খনন করে অষ্টম শতকে নির্মিত দেবী জগদ্ধাত্রীর একটি প্রস্তরমূর্তি পেয়েছেন, যা এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে।

এছাড়াও অষ্টাদশ শতকে নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকালে শান্তিপুরের জলেশ্বর ও রাঘবেশ্বরের শিবমন্দিরের গাত্রে টেরাকোটার ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি দেখা যায়। জগদ্ধাত্রীও দেবী দুর্গার মতো সিংহকে বাহন হিসেবে রেখেছেন। দশ হাতের বদলে চার হাতে রয়েছে বামদিক থেকে যথাক্রমে শঙ্খ ও শার্ঙ্গধনু এবং ডানহাতে চক্র ও পঞ্চবান। দেবীর গায়ের রং প্রভাতের সূর্যের মতো রক্তবর্ণা কমলা। তিনি সালঙ্কারা। তিনি ত্রিনয়না। উপনিষদে তাঁকে আদিশক্তিরূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/religion/jagaddhatri-broke-the-pride-of-the-gods
