# ইমাম ইবনে কাসির: শতাব্দী পেরিয়েও কেন তার প্রাসঙ্গিকতা অক্ষুণ্ণ

*ইমাম ইবনে কাসিরের কাজ শতাব্দী পেরিয়েও ইসলামি চিন্তাজগতে প্রাসঙ্গিক ও মূল্যায়িত হয়।*

১৩ জুন, ২০২৬ · ধর্ম

## এক নজরে

- ইমাম ইবনে কাসির ছিলেন অষ্টম হিজরির প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, মুহাদ্দিস ও ফকিহ।
- তাঁর কাজ নির্ভরযোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও অনন্য ভারসাম্যের জন্য প্রাসঙ্গিক।
- তাফসির, ইতিহাস ও হাদিসশাস্ত্রে তাঁর কাজ কালজয়ী বিশ্বকোষ হিসেবে স্বীকৃত।

ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) ছিলেন অষ্টম হিজরির প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, মুহাদ্দিস ও ফকিহ। আজ এত বছর পরও তাঁর প্রতিটি কাজ নির্ভরযোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও অনন্য ভারসাম্যের এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে মূল্যায়িত হয়।

হিজরি ৭০১ সনে সিরিয়ার ঐতিহাসিক বসরা নগরীতে জন্মগ্রহণকারী ইবনে কাসির শৈশবের প্রারম্ভেই পিতৃস্নেহ হারান। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন এবং তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আলেমদের অধীনে তাফসির, হাদিস ও ফিকহের জটিল শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়ন করতে শুরু করেন।

দামেস্কের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তাঁর পাঠদান ছিল অত্যন্ত সুসংহত ও যুক্তিগ্রাহ্য। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে হাফেজ জাইনুদ্দিন আল-ইরাকি ও বিখ্যাত কারি ইবনুল জাজারির মতো ব্যক্তিত্বরা পরবর্তী সময়ে বিশ্বমঞ্চে ইলমের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ইবনে কাসির শাস্ত্রীয় রচনার মাধ্যমে ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসের তিনটি প্রধান শাখায় কালজয়ী বিশ্বকোষ উপহার দিয়েছেন: তাফসিরশাস্ত্রে তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ইতিহাসশাস্ত্রে আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া এবং হাদিসশাস্ত্রে জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান।

ইবনে কাসিরের গভীর পাণ্ডিত্য দেখে আল্লামা শামসুদ্দিন জাহাবি (রহ.) মূল্যায়ন করেছিলেন, ‘তিনি একাধারে একজন অনন্য ইমাম, প্রাজ্ঞ হাদিসবিশারদ ও গভীর জ্ঞানসম্পন্ন মুফতি।’ ৭৭৪ হিজরির শাবান মাসে দামেস্কে এই মহান ইমাম আপন প্রভুর সান্নিধ্যে প্রত্যাবর্তন করেন।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/religion/imam-ibne-qasir-prasangik
