# বুদ্ধপূর্ণিমায় আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের গুরুত্ব

*বুদ্ধপূর্ণিমার আলোকে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনধারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · ধর্ম

## এক নজরে

- বুদ্ধপূর্ণিমায় শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান দেওয়া হয়েছে
- সকল প্রাণীর সুখের জন্য বুদ্ধের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে

বুদ্ধপূর্ণিমার আলোকে শান্তি ও সম্প্রীতিতে বসবাস করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বুদ্ধ বলেছিলেন, ‘সব্বে সত্ত্বা সুখিতা হোন্তু’ অর্থাৎ জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। বোধের বাতায়ন রুদ্ধ থাকার কারণেই মানুষে-মানুষে বা ধর্মে-ধর্মে কলহ সৃষ্টি হয়। বুদ্ধ শিক্ষা দিয়েছেন যে, অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই মানুষের ধর্ম।

## বুদ্ধের শিক্ষা

বুদ্ধ বলেছিলেন, কলহে জর্জরিত মানুষ জানে না সে নিজেই যেখানে নিজের নয়, অন্যকে বশ করতে চায় কী করে? পারিবারিক, সামাজিক বা ধর্মীয়ভাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই স্বাধীন অংশগ্রহণ ও স্বতন্ত্র জীবনযাপনের অধিকার রাখে। এখানে কোনো প্রকার বৈষম্য দেখা দিলে তা বৌদ্ধধর্মের পরিপন্থি হিসেবেই গণ্য হবে।

## বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি

বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত একটি জনবহুল দেশ। তবে ঐতিহাসিকভাবে বৌদ্ধরা কখনো ধর্মীয় উন্মাদনায় আস্থাশীল নয়; তারা জ্ঞানের মাধ্যমে জীবনযাপনে আগ্রহী। ঐতিহাসিকদের মতে, বৌদ্ধ পাল রাজাদের চারশত বছরের রাজত্বকাল ছিল বাংলার ‘স্বর্ণযুগ’। পালদের রাজত্বকালে সকল ধর্মের সহাবস্থান সোনার মতো ঔজ্জ্বল্য ছড়াত।

## সম্প্রীতির গুরুত্ব

মসজিদ, মন্দির, বিহার ও গির্জার পাশাপাশি অবস্থান এই ভূখণ্ডের সম্প্রীতির পরিচয় দেয়। মন্দিরের শঙ্খধ্বনি কিংবা আজানের ধ্বনি কখনো অন্য ধর্মের মানুষের কাছে বিকট ঠেকেনি। বৌদ্ধদের বন্দনাগীতি কিংবা খ্রিষ্টানদের প্রার্থনা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। যখন এই ঐক্যতানে ছেদ পড়ে, তখন আমরা বিপন্ন বোধ করি।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/religion/antardharmik-sompritir-gourbo
