# তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য পুরোনো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে

*সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বিভ্রান্তির জন্য পুরোনো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · রাজনীতি

## এক নজরে

- তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বিভ্রান্তির জন্য পুরোনো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে
- সেনাবাহিনীর গাড়ি জনতার হামলার ভিডিওটি খাগড়াছড়ির ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনা
- পুলিশের ধাওয়ার ভিডিওটি ২০২৫ সালের নভেম্বরের ঢাকার ঘটনা

সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বিভ্রান্তির জন্য পুরোনো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের জানাজা বা ভোলার কোনো সম্পর্ক নেই।

এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর একটি গাড়িকে ঘিরে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করছে। ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষকে বাধা দিতে গিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়ি জনতার হামলার শিকার হয়েছে।

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি এখনকার নয়, ভোলারও নয়। এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়িতে সংঘটিত ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সময়কার।

ওই সময় খাগড়াছড়িতে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ নিয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। খাগড়াছড়ির স্থানীয় সাংবাদিক শাহ আলমও নিশ্চিত করেছেন, ভিডিওটি খাগড়াছড়ি সদরের প্রধান সড়কে ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি গত বছরের আন্দোলনের সময়কার ঘটনা।

একইভাবে, ফেসবুকে ২৬ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ‘তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে রণক্ষেত্র ভোলা শহর।’ ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে পুলিশ কিছু মানুষকে ধাওয়া করছে এবং তারা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

যাচাই করে দেখা যায়, এটি ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের ঘটনা। ঢাকা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত মূল ভিডিওতে উল্লেখ ছিল, এটি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ঝটিকা মিছিলে পুলিশের ধাওয়ার দৃশ্য।

আরেকটি ভাইরাল ভিডিওতে কয়েকজন টুপি-পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিকে হাতাহাতি করতে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় রাস্তায় রাস্তায় সাধারণ মানুষকে আসতে বাধা দিচ্ছে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা।’

তবে ভিডিওটির কয়েকটি কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি অন্তত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে অনলাইনে রয়েছে। যাচাইয়ে জানা যায়, ঘটনাটি রাজধানীর জিয়া উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় ঘটেছিল এবং এর সঙ্গে ভোলা বা তোফায়েল আহমেদের জানাজার কোনো সম্পর্ক নেই।

যেসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব দাবি ছড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘গুরুদাসপুর উপজেলা যুবলীগ’, ‘Shipon Islam’, ‘মিঠাপুকুর আওয়ামী লীগ পরিবার’, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’, ‘আমি আওয়ামী লীগ’ এবং ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ নামের অ্যাকাউন্টগুলো।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/politics/tofail-ahmed-janaza-viral-old-videos
