# সুশাসনের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও দলীয় প্রভাব বিএনপির ইশতেহার পূরণে বাধা: টিআইবি

*টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুশাসনের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও দলীয় প্রভাব বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পূরণে ঝুঁকি তৈরি করছে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · রাজনীতি

## এক নজরে

- সুশাসনের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও দলীয় প্রভাব বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পূরণে ঝুঁকি তৈরি করছে
- সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা ঘোষণা, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসা, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা লক্ষণীয় মাত্রায় বিদ্যমান
- সরকারের গঠনের ১০০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিশন গঠনের জন্য দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, সুশাসনের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও দলীয় প্রভাব বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পূরণে ঝুঁকি তৈরি করছে। টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

গবেষণার শিরোনাম ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’।

আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন ও রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা।

প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা ঘোষণা, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও বিভিন্ন হাটবাজার, পরিবহন খাত, বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসা, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা লক্ষণীয় মাত্রায় বিদ্যমান। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে।

পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের গঠনের ১০০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিশন গঠনের জন্য দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেওয়া হলেও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থক, আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ীসহ প্রায় সব পেশাজীবীদের মধ্যেই দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চা লক্ষণীয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় শক্তির উত্থান ও দেশব্যাপী বহুমত–বহুধর্মী–সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিতা নির্বাচিত সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্রের একাংশ সব পরিবর্তন চাইলেও নিজেদের পরিবর্তন চায় না। এ ছাড়া সরকারের পেছনে যে শক্তিগুলো আছে, তাদের একাংশ ক্ষমতাকে দেখে নিজেদের সুবিধা অর্জনের লাইসেন্স হিসেবে। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই এমন শক্তি আছে, যারা দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে চায়। এর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও থাকতে পারে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/politics/ti-bi-report-on-bnp-manifesto-fulfillment
