# স্বাক্ষর জাল মামলা: ৫ ঘণ্টা জেরার পর সিআইডি আবার তলব করল অভিষেককে

*পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৫ ঘণ্টা জেরা করেছে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · রাজনীতি

## এক নজরে

- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাক্ষর জাল মামলায় সিআইডি ৫ ঘণ্টা জেরা করেছে।
- তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে সিআইডি আবার তাঁকে রোববার তলব করেছে।
- তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৫ ঘণ্টা জেরা করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডির সদর দপ্তরে তাঁকে জেরা করা হয়। তবে তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট হতে না পেরে আগামী রোববার তাঁকে আবারও তলব করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতায় ফিরে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেলে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা স্বাক্ষর জাল-সংক্রান্ত অভিযোগ ও সিআইডির তলব নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বিমানবন্দর থেকে সোজা নিজের বাসভবনে গিয়ে পরে সেখান থেকে ভবানী ভবনে যান তিনি।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলে দেড় দশক পর ক্ষমতা হারায় তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ৮০টি আসন নিয়ে তৃণমূলকে বসতে হচ্ছে বিরোধী দলের আসনে। নিয়ম অনুযায়ী পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে চিঠি দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিযোগ ওঠে, ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরসংবলিত ওই তালিকায় অসংগতি রয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দাবি করেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে ওই তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, যে তারিখে রেজোল্যুশনে তাঁদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, সেদিন তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি তলব করলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হতে পারেননি। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। বিচারপতি কৌশিক চন্দ মামলার শুনানি শেষে জানান, অভিষেক যদি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেন, তবে তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য সাময়িক আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ দেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছান। সিআইডির ১০-১২ জনের একটি বিশেষ দল রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহ অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় নথি জব্দ করতে পারবে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে গেছেন, যা তদন্ত এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই তাঁকে রোববার আবার তলব করা হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দলের ৫৮ জন বিধায়ক। তাঁরা পৃথক বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা করার দাবিতে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাক্ষর জালের এই মামলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ভেতরে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/politics/swakshar-jal-mamla-5-ghonta-jerar-por-abhishek-ke-abar-tolabo-cid-er
