# সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতির বিপদ নিয়ে সতর্কবার্তা মির্জা ফখরুলের

*মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতির বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন।*

১৩ জুন, ২০২৬ · রাজনীতি

## এক নজরে

- মির্জা ফখরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতির বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার পরিকল্পিত বলে মনে করছেন মির্জা ফখরুল।
- রাজনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতিবিদদের নিয়ে অপপ্রচার পরিকল্পিত বলে মনে করছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এর পেছনে রাজনীতি ‘ধ্বংসের’ ষড়যন্ত্র দেখছেন।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এই প্রসঙ্গে কথা বলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম তারা এবং তাঁর বড় ভাই প্রয়াত রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যা খুশি তা করা হয়। সমাজের কাছে, রাজনীতিবিদদের একটা সবচেয়ে হীন ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। লক্ষ করে দেখবেন, রাজনীতি ধ্বংসের একটা ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতি সুস্থ রাজনীতির জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, যারা অনলাইনে বুলিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসব করছে। তিনি বলেন, ‘তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যে ভাষা, যে কনটেক্সট নিয়ে আসেন, এটা রাজনীতির স্বাভাবিক যে ধারা, সেটাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’

চার মাস আগে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরলেও তা এখনো বিপদ–মুক্ত নয় বলে সতর্ক করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘চতুর্দিকে পরিকল্পিত ও সচেতনভাবে একটা প্রচেষ্টা রয়েছে সবকিছুকে ভেঙে, অর্থহীন করে এর মাধ্যমে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

এই মন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে জুলাইয়ের পর থেকে এই চক্রান্ত করছে। তারা চায়, যাতে দেশে গণতন্ত্র না থাকে। সরকারের দায়িত্ব হবে, এসব চক্রান্তকে চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সেই চক্রান্তকে রুখে দেওয়া।

গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, এমন একটি শক্তির উত্থান এখন দেশে হচ্ছে বলে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এই শক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক হওয়া উচিত।’

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপির কাছে কেউ বিপ্লব আশা করলে তা ভুল হবে।

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলের সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি প্রয়াত মাহবুবুল আলম তারার জনপ্রিয়তা ও আন্দোলন–সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণ করে বলেন, ছাত্রজীবনেই তিনি তরুণসমাজের কাছে আস্থাভাজন নেতা হয়ে উঠেছিলেন। ব্যবসায়িক জীবনেও তিনি রেখেছিলেন সাফল্যের ছাপ।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ প্রয়াত মাহবুবুল আলম ও মাহবুবুল হককে স্মরণ করে বলেন, তাঁরা ছিলেন মূল্যবোধের প্রতীক। যাঁরা নিজেদের জন্য কখনো রাজনীতি করতেন না। বরং মানুষের জন্য রাজনীতি করতেন।

মাহবুবুল হকের মেয়ে অধ্যাপক জাফরুন নাহারের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা এম মাসরুর রিয়াজ, ফেনী জেলা বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, শেখ ফরিদ বাহার, মেজবাহ উদ্দিন খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রয়াত দুই রাজনীতিবিদের নামে ফেনী জেলায় কোনো স্থাপনা বা সড়কের নামকরণের প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/politics/mirza-fakhrul-warns-about-dangers-of-social-media-politics
