# সাংবাদিকদের গুম-খুনের সম্মতি উৎপাদনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জানতে চান হাসনাত আবদুল্লাহ

*আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিক পরিচয়ে যারা গুম-খুনের সম্মতি উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চেয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।*

১৩ জুন, ২০২৬ · রাজনীতি

## এক নজরে

- হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান গুম-খুনের সম্মতি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, আইনের বিপক্ষে কাজ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- সরকার মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন নিয়ে কাজ করছে, অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে

এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিক পরিচয়ে যারা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা এবং সম্মতি উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চেয়েছেন। তিনি জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নে এ বিষয়ে জানতে চান।

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কেউ আইনের বিপক্ষে কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় সাংবাদিকতা করা খুবই কঠিন ছিল। সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক পেশাদারি দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যারা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা এবং সম্মতি উৎপাদন করেছে মিডিয়াগুলোতে এবং যারা আজকে সরকার দলে আছে বিএনপি, বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উনাকেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারী, দেশদ্রোহী হিসেবে...আমরা দেখেছি বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া বিভিন্ন সময় নিউজ করেছে এবং আজকে যারা বিএনপি এবং জামায়াত আছে আমাদের এই সংসদে, তাদেরকেও বিভিন্ন সময় হত্যা করার সম্মতি উৎপাদন করেছে কিছু মিডিয়া এবং কিছু নামধারী সাংবাদিক।’

এই সাংবাদিকদের এখন আবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন টিভি’ থেকে জুলাইয়ের পক্ষের যাঁরা সাংবাদিক ছিলেন তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সময় টিভিকে দখল করা হয়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া অর্থাৎ বসুন্ধরা গ্রুপের যে মিডিয়াগুলো রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে। গতকাল নোয়াখালীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে পিটিয়েছে, সেটাকে উদ্‌যাপন করতে দেখা গেছে বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াকে এবং কিছু ‘টক শোজীবী’কে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীর কাছে প্রশ্নটি হচ্ছে, যারা এই গুম–খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে; গণতন্ত্রের পক্ষে যারা ছিল, তাদের হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছে—এই সব নামধারী সাংবাদিক এবং এই মিডিয়াদের বিপক্ষে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আইনি ব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হয়েছে কি না? কেন তাদের আবার পুনর্বাসন করা হচ্ছে? সেটির আইনগত ব্যাখ্যাটি কী?’

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করার কাজ করবে, কোনো সন্ত্রাসের কাজ করবে; সে যে–ই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘এখন উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংবাদিকের কার্ড পাওয়া যায়। সে রিপোর্টারও না, ম্যাট্রিক পাসও না। ইউটিউবের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তা প্রচার করছে।’ তিনি জানতে চান, ‘এ ধরনের ব্যক্তিদের কে সাংবাদিকের কার্ড দেয়, এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না।’

জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সরকার মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) এবং ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) নিয়ে কাজ করছে। যাঁরা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রকম মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন। এ বিষয়ে একটি টিম করা হয়েছে। মনিটরিং করে তাঁদের আইনের আওতায় আনা যায় কি না, সে বিষয়ে কাজ চলছে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে সব অনলাইন মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালকে অনুমতি দেওয়া হবে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ৫৮৫টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ৩৬৩টি এবং মাসিক পত্রিকা ২৯৬টি। এর মধ্যে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক ২৮৮টি, সাপ্তাহিক ৫৬টি ও মাসিক ২৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/politics/hasnat-abdullah-asks-for-legal-action-against-journalists-producing-consent-for-abductions-and-murders
