# দৈনন্দিন ছোট অভ্যাসগুলো কীভাবে বাড়াচ্ছে মানসিক চাপ

*দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে, যা অজান্তেই মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · লাইফস্টাইল

## এক নজরে

- সকালে ও রাতে ফোন ব্যবহার মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।
- অনিচ্ছায় হ্যাঁ বলা মানসিক চাপের কারণ।
- অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া মেজাজ খিটখিটে করে তোলে।

মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বড় কোনো ঘটনা—অফিসের ডেডলাইন, পরীক্ষা কিংবা পারিবারিক সমস্যা। বড় বড় মুহূর্তের চাপ সামলানোর জন্য অনেকেই প্রস্তুতি নেন, আগেভাগে পরিকল্পনাও করে রাখেন। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে এমনই ছোট ছোট কিছু ঘটনা ঘটে, যা নীরবেই মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। অবচেতন মনের আড়ালে ছোট ছোট জমানো চাপ একদিন পাহাড়সম হয়ে ওঠে। ক্ষতি করে ফেলে বিশাল। কী সেই চাপ, দেখে নিই একনজরে।

## সকালে ও রাতে ফোনের ব্যবহার

ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়া অনেকেরই সকাল শুরু হয় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। ঘুম থেকে উঠে মস্তিষ্ক যখন কাজ ঠিকমতো শুরুও করতে পারেনি, তখনই তার ওপর এসে পরে হাজারো খবরের বোঝা। নোটিফিকেশন ও মেসেজ থেকে শুরু করে সব ধরনের সংবাদ নিয়ে হাজির হয় ফোনের স্ক্রিন। ফলে সুন্দর শুরুর পরিবর্তে দিন শুরুই হয় অজান্তে এক মানসিক চাপ নিয়ে, যা থেকে সহজে বের হওয়া যায় না।

## ঘুমের গুরুত্ব

সকালের শুরুটা যেমন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হয়, তেমনই অনেকের রাতটাও শেষ হয় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। কর্মব্যস্ত দিনের শেষে ঘুমের রাজ্যে যাওয়ার জন্য কিছুটা সময়ের দরকার। ফোনের স্ক্রিনে সেই সময় পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে মস্তিষ্ক না পায় নিজেকে শান্ত করার সময়, না পায় মানসিক ক্লান্তি ঝেড়ে পরের দিনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। ফলে আগের রাতের চাপ বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় পরদিন সকালেও।

## অনিচ্ছায় হ্যাঁ বলা

হুমায়ূন আহমেদের ‘বহুব্রীহি’ নাটকে একটি চরিত্র ছিলেন ডাক্তার। আফজাল হোসেন অভিনীত সেই চরিত্র কখনো ‘না’ বলতে পারত না। নাটকে হাসির পাত্র হলেও বাস্তবে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা ‘না’ বলতে চাইলেও পারেন না। সত্যিকারের ইচ্ছা বা সামর্থ্য না থাকলেও শুধু কাউকে খুশি করতে গিয়ে অনেকেই ‘হ্যাঁ’ বলে দেন। এতে মনের অজান্তেই বাড়তি একটা চাপ এসে পড়ে।

## সমস্যা বের করা কিন্তু সমাধান না করা

কোনো কাজ শুরুর আগে সমস্যা বের করা ভালো। কিন্তু সেই সমস্যা বের করে যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে এর কোনো মূল্যই নেই। কোনো কার্যকর সমাধান না খুঁজে যদি একই সমস্যার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে হয়, তাহলে সেই সমস্যা একধরনের মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। ছোট্ট একেকটা বিষয় চাপ হয়ে বসে থাকে মস্তিষ্কে।

## অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া

মেজাজ খিটখিটে হওয়ার অন্যতম বড় কারণ সময়মতো খাওয়াদাওয়া না করা। রক্তে শর্করা বা সুগার হুটহাট ওঠানামা করলে মেজাজ বিগড়ে যায়। অনিয়মিত বা তাড়াহুড়ো করে খাবার খেলে শরীর মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/lifestyle/choto-choto-obhyas-badhacche-stress
