# ৯–৫টার চাকরির বাইরে: কর্পোরেট চাকরির মানসিক চাপ ও ২৪ ঘণ্টার কাজের বাস্তবতা

*ডিজিটাল ওভারলোড এবং সার্বক্ষণিক ‘কানেক্টেড’ থাকার বাধ্যবাধকতা ঢাকার করপোরেট অফিসগুলোর সময়সীমা বিলুপ্ত করেছে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · চাকরি

## এক নজরে

- ডিজিটাল ওভারলোড ও সার্বক্ষণিক নজরদারি কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
- কর্মজীবী মায়েদের ওপর দ্বিগুণ চাপ রয়েছে।
- চাকরি হারানোর আতঙ্কে কর্মীরা মানসিক চাপ প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

ঢাকার করপোরেট অফিসগুলোর সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। কিন্তু ডিজিটাল ওভারলোড এবং সার্বক্ষণিক ‘কানেক্টেড’ থাকার বাধ্যবাধকতা এই সময়সীমাকে বিলুপ্ত করেছে। ২০২৬ সালের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পারফরম্যান্সের চাপ এবং ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

## অনিকের গল্প: ২৪ ঘণ্টার ডিজিটাল দাসত্ব ও ‘অ্যাংজাইটি’

অনিক (ছদ্ম নাম) একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের টিম লিডার। কাজের অতিরিক্ত চাপ ও সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে তিনি এখন তীব্র উদ্বেগের রোগী। অনিকের ভাষায়, ‘অফিস নাকি বিকেল পাঁচটায় শেষ হয়! কিন্তু রাত দুইটাতেও ফোন শান্ত থাকে না। বসের একটা হোয়াটসঅ্যাপ নোটিফিকেশন মানেই বুকটা ধড়ফড় করে ওঠা।’

## দিবার গল্প: কর্মজীবী মায়েদের ওপর দ্বিগুণ চাপ

দিবা (ছদ্ম নাম) একটি বেসরকারি ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তা, যিনি সম্প্রতি মা হয়েছেন। দিবা জানান, ‘সবাই মুখে প্রসূতিকল্যাণ আর নমনীয়তার কথা বলে। কিন্তু মা হওয়ার পর প্রতিদিনের লড়াইটা যে কত নিঃসঙ্গ, তা কেউ বোঝে না।’

## বাঁধনের গল্প: চাকরি হারানোর আতঙ্ক ও নীরবতার সংস্কৃতি

বেসরকারি শিক্ষা খাতে কর্মরত বাঁধন (ছদ্ম নাম) অন্য এক বাস্তবতার মুখোমুখি। তিনি মূলত সেই বিশাল জনগোষ্ঠীর অংশ, যাঁরা ছাঁটাইয়ের ভয় এবং সামাজিক মর্যাদার কারণে কর্মক্ষেত্রের মানসিক নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করেন।

## নৈতিক দায়িত্ব নাকি স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট?

২০২৬ সালে এসেও আমাদের করপোরেট কালচার এখনো আউটপুট ও এফিশিয়েন্সির পেছনে অন্ধের মতো ছুটছে। কিন্তু গ্লোবাল ওয়েলনেস ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, যে প্রতিষ্ঠান কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, সেখানে উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং অনুপস্থিতির হার কমে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/jobs/corporate-life-mental-health-crisis
