# গবাদিপশুতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বাড়লে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: গবেষণা

*গবাদিপশুতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বাড়লে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · স্বাস্থ্য

## এক নজরে

- গবাদিপশুতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বাড়লে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।
- বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই গবাদিপশু পালনে ব্যবহার করা হয়।
- সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

সরকার হস্তক্ষেপ না করলে আগামী ১৫ বছরে গবাদিপশুর খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাবে। এর ফলে মানবদেহে অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের কার্যকারিতার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। নতুন বৈশ্বিক গবেষণায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই গবাদিপশু পালনে ব্যবহার করা হয়। অনেক দেশে এই ওষুধের ব্যবহারের ওপর তেমন কোনো নজরদারি নেই। কিছু খামারে পশুকে নিয়মিত এই ওষুধ খাওয়ানো হয়। এমনকি অনেক দেশে মাংস উৎপাদনের জন্য পালিত পশুর দ্রুত বৃদ্ধির জন্যও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহার করেন খামারিরা।

## সুপারবাগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ

সুপারবাগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ এটি। সুপারবাগের কারণে ক্রমশ প্রতিরোধী হয়ে ওঠা রোগগুলোর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) কারণে বর্তমানে শুধু ইউরোপেই বছরে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ইউরো (৯৫০ কোটি পাউন্ড) ক্ষতি হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এই ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

## সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে কোটি কোটি মৃত্যুর আশঙ্কা

সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) কারণে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এ ছাড়া হিপ রিপ্লেসমেন্টের মতো সাধারণ অস্ত্রোপচারগুলোও তখন জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠবে।

## খামারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ হুমকির মুখে

খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানোর সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো বেশ কাজে দিয়েছিল। ২০১৩ সালের সর্বোচ্চ ব্যবহারের তুলনায় এই ওষুধের পরিমাণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এনেছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু মাংসের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা ও আইনের শিথিলতার কারণে এই অগ্রগতি এখন হুমকির মুখে। পশুর দ্রুত বৃদ্ধির জন্য খামারিরা আবারও অ্যান্টিবায়োটিকের দিকে ঝুঁকছেন।

## জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্কবাণী

গতকাল বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতিবছর গবাদিপশুকে এক লাখ ৪৩ হাজার টনের বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। এটি ২০১৯ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এমনকি এটি ২০১৩ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডকেও (এক লাখ ১৮ হাজার থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টন) ছাড়িয়ে যাবে।

## পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব

তবে প্রতিবেদনের রচয়িতারা বলছেন, এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। কৃষকদের ও মাংস উৎপাদনকারীদের আরও উন্নত পদ্ধতি শেখানো যেতে পারে। এতে কৃত্রিমভাবে পশু বৃদ্ধির প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ করাও সহজ হবে।

## সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বান

এই বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ‘অ্যালায়েন্স টু সেভ আওয়ার অ্যান্টিবায়োটিকস (এএসওএ)’-এর প্রতিনিধি কোইলিন নুনান। তবে তিনি এফএওর ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিকের সবচেয়ে বাজে অপব্যবহার হলো পশুর বৃদ্ধির জন্য এটি ব্যবহার করা। এই প্রথা বন্ধ করতে গেলে কিছু খরচ তো হবেই।’

## ইইউ ও যুক্তরাজ্যে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

দ্রুত বৃদ্ধির ওষুধ প্রয়োগ করে উৎপাদিত মাংস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে এএসওএ। ব্রেক্সিটের পর খামারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের মানদণ্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। অন্যদিকে ইইউ তাদের নিয়মকানুন শিগগিরই আরও কঠোর করতে যাচ্ছে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/health/antibiotics-in-livestock-threaten-human-health
