বিশ্ব ভিসিআর দিবসে প্রায় দুই দশক পর ভিএইচএস (পুরোনো ক্যাসেট টাইপ ভিডিও ফরম্যাট) ফরম্যাটে মুক্তি পেয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। ‘দিস ইজ হাউ দ্য ওয়ার্ল্ড এন্ডস’ শিরোনামের সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রবার্ট দোস সান্তোস। এই সিনেমা দেখা যাবে না সিনেমা হল, অনলাইন স্ট্রিমিং বা ডিভিডিতে। এটি শুধুই পুরোনো ভিডিও টেপে পাওয়া যাবে, যার জন্য প্রয়োজন হবে ভিসিআর।
২০০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটেনের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরে ভিসিআর ছিল। এরপর ধীরে ধীরে ডিভিডি, তারপর ব্লু-রে এবং এখন স্ট্রিমিং এসে ভিসিআরকে সরিয়ে দেয়। ২০১৬ সালে বিশ্বের শেষ ভিসিআর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ফুনাই ইলেকট্রিকও উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। তাই কোনো সিনেমা যদি এখন সরাসরি ভিডিও টেপে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে সেটা দেখা স্বাভাবিকভাবেই অনেক কঠিন হয়ে যায়।
সিনেমার গল্পে দেখা যায়, দীর্ঘদিন আলাদা থাকা দুই ভাই-বোন হঠাৎ এক বিশাল পার্টিতে একে অপরের মুখোমুখি হয়। এই পার্টি কোনো সাধারণ আয়োজন নয়, এটি এমন এক সময়ের প্রেক্ষাপটে সাজানো, যখন মনে হয় পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। সেই পরিবেশে মানুষের আনন্দ, ভয়, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা একসঙ্গে সামনে আসে।
পরিচালক রবার্ট দোস সান্তোস জানিয়েছেন, সিনেমাটি ইচ্ছা করেই ভিএইচএস ফরম্যাটে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, দর্শক সহজে না দেখে, একটু কষ্ট করে সিনেমাটি দেখবে—এটাই বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মতো। দোস সান্তোস বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে খুব সহজে কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তিনি চান মানুষের তৈরি, মানুষের জন্য তৈরি একটি অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে আনতে।
সিনেমাটি পরে ধাপে ধাপে ডিভিডি, ব্লু-রে, সিনেমা হল এবং বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও মুক্তি পাবে। তবে প্রথম মুক্তি শুধু ভিএইচএসে দেওয়া হচ্ছে। পুরোনো ভিএইচএস ফরম্যাটকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে আবারও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংগ্রাহক ও অনলাইন কমিউনিটিতে এখনো এই ফরম্যাটের একটি নির্দিষ্ট অনুসারী শ্রেণি রয়েছে।



















