# অমিতাভের সঙ্গে ছবি করতে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন সুনীল দত্ত

*অভিনেতা সুনীল দত্তের স্বপ্নবাজি তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · বিনোদন

## এক নজরে

- অভিনেতা সুনীল দত্তের স্বপ্নবাজি তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
- ১৯৭১ সালে নির্মিত ‘রেশমা অউর শেরা’ ছবির জন্য সুনীল দত্ত নিজের বাড়ি বন্ধক রাখতে বাধ্য হন।
- ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও সমালোচকদের প্রশংসা পায় এবং জাতীয় পুরস্কার জেতে।

অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, সমাজসেবক ও পরবর্তীকালে রাজনীতিক—অনেক পরিচয়েই চেনানো যায় সুনীল দত্তকে। তবে সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। আর সেই স্বপ্নই একসময় তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল প্রায় দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

১৯৭১ সালে নির্মিত সুনীলের স্বপ্নের ছবি ‘রেশমা অউর শেরা’ আজ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু ছবিটির পেছনের গল্প আরও নাটকীয়। এই একটি সিনেমা বানাতে গিয়ে সুনীল দত্তকে বন্ধক রাখতে হয়েছিল নিজের বাড়ি, বিক্রি করতে হয়েছিল গাড়ি, এমনকি সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানোও হয়ে উঠেছিল কঠিন।

অভিনয়ের পাশাপাশি সুনীল প্রযোজনাতেও নামেন। কিন্তু ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে শিল্পমানকে বেশি গুরুত্ব দিতেন তিনি। ফলে প্রযোজক হিসেবে তাঁর ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠত।

মরুভূমিতে এক অসম্ভব স্বপ্ন ‘রেশমা অউর শেরা’ ছিল রাজস্থানের পটভূমিতে নির্মিত এক ট্র্যাজিক প্রেমের গল্প। পারিবারিক শত্রুতা, প্রতিশোধ ও প্রেমকে ঘিরে নির্মিত এই ছবিকে সুনীল দত্ত সাধারণ বাণিজ্যিক সিনেমার গণ্ডির বাইরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

অমিতাভকে নিয়ে সংশয় এ ছবিতেই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। তখন তিনি বলিউডে প্রতিষ্ঠিত নন। জনশ্রুতি আছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং অমিতাভের পরিবারঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রেই ছবিতে তাঁর সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

বাড়ি বন্ধক, সবকিছু বাজি শুটিং দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত নিজের বাংলো বন্ধক রাখতে বাধ্য হন সুনীল দত্ত।

মুক্তির পর ধাক্কা ১৯৭১ সালে মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। যদিও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল। ছবিটি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতে এবং ভারতের পক্ষ থেকে অস্কারের জন্যও মনোনীত হয়। কিন্তু শিল্পগত সাফল্য আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারেনি।

একসময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে সুনীল দত্তকে একের পর এক গাড়ি বিক্রি করতে হয়। পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে তিনি দ্রুত কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

সংসারের নীরব সংগ্রাম এই সংকটকালে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন নার্গিস। মেয়ে নর্মতা দত্ত লিখেছেন, এমন দিনও এসেছে, যখন নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য ছিল না। তখন নার্গিস পুরোনো স্কুল ইউনিফর্ম ও মোজা সেলাই করে ব্যবহার করতেন।

সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বিনোদ খান্না। তাঁর প্রথম বড় সুযোগ এসেছিল সুনীল দত্তর প্রযোজিত ছবি ‘মন কা মিত’-এ। দত্ত পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথা জেনে তিনি সুনীলকে নতুন ছবি শুরু করার পরামর্শ দেন। সে উদ্যোগ থেকেই পরে তৈরি হয় ‘নীলে পে ডেলা’, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/entertainment/sunil-dutt-reshma-aur-shera-financial-struggle
