# অভাবে শুধু চিপস খেয়ে ডিনার সারাতেন, এখন ৩০৬ কোটি টাকার মালিক

*পিটার ডিঙ্কলেজ তার অসাধারণ অভিনয় ও অভিনয়ের প্রতি অটল বিশ্বাসের জন্য পরিচিত।*

১৩ জুন, ২০২৬ · বিনোদন

## এক নজরে

- পিটার ডিঙ্কলেজ হলিউডের একজন বিখ্যাত অভিনেতা যিনি তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য পরিচিত।
- তিনি অত্যন্ত কঠিন সংগ্রামের পর সাফল্য অর্জন করেছেন।
- ডিঙ্কলেজ ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন এবং তিনি ৩০৬ কোটি টাকার মালিক।

পিটার ডিঙ্কলেজ তার অসাধারণ অভিনয় ও অভিনয়ের প্রতি অটল বিশ্বাসের জন্য পরিচিত। অভাবের মধ্যে শুধু চিপস খেয়ে ডিনার সারানো থেকে শুরু করে আজ তিনি ৩০৬ কোটি টাকার মালিক। তার জীবনের গল্পটি একজন অভিনেতার মাত্র সাফল্যের গল্প নয়, বরং একজন মানুষের গল্প যিনি সমাজের তৈরি সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

## শৈশব ও প্রাথমিক জীবন

পিটার ডিঙ্কলেজ ১৯৬৯ সালের ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর অ্যাকনড্রোপ্লাসিয়া নামের একধরনের ডোয়ার্ফিজম বা খর্বাকৃতির শারীরিক অবস্থা রয়েছে। শৈশব থেকেই তাঁকে অন্যদের কৌতূহল, বিদ্রূপ ও সামাজিক অস্বস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে পরিবার তাঁকে শেখানো হয়েছিল নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করতে এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে।

## অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ও প্রাথমিক সংগ্রাম

স্কুলজীবনেই পিটার ডিঙ্কলেজের অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি নিউইয়র্কের বেনিংটন কলেজে নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। হলিউডে খর্বাকৃতির অভিনেতাদের জন্য যে ধরনের চরিত্র লেখা হতো, সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল হাস্যরসের উপকরণ। ডিঙ্কলেজ এসব চরিত্রে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তাঁর ক্যারিয়ার আরও কঠিন হয়ে যায়।

## অর্থকষ্ট ও দীর্ঘ সংগ্রাম

অভিনয়ের সুযোগ না থাকায় দীর্ঘ সময় ডিঙ্কলেজ দারিদ্র্যের মধ্যে কাটিয়েছেন। নিউইয়র্কে ছোট একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। কখনো কখনো ভাড়া দেওয়ার টাকাও থাকত না। একবার তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের হিটিং সিস্টেম নষ্ট হয়ে যায়। শীতের মধ্যে তাঁকে প্রায় জমে যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকতে হয়েছিল। প্রায়ই তাঁর কাছে টাকার এতটাই অভাব হতো যে এক প্যাকেট চিপস খেয়েই তাঁকে রাতের খাওয়া সারতে হতো।

## ভাগ্য বদলের টার্নিং পয়েন্ট

২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য স্টেশন এজেন্ট’ সিনেমাটি ডিঙ্কলেজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এতে তিনি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেন, যার পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিল না তাঁর উচ্চতা; বরং ছিল তাঁর একাকিত্ব, সম্পর্ক ও মানবিক অনুভূতি। এমন চরিত্রে ডিঙ্কলেজের অভিনয় দেখে সমালোচকেরা তাঁর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। হলিউড প্রথমবারের মতো তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ অভিনেতা হিসেবে দেখতে শুরু করে।

## ‘গেম অব থ্রোনস’ এবং বিশ্বজয়

২০১১ সালে গেম অব থ্রোনস সিরিজের টিরিয়ন ল্যানিস্টার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান ডিঙ্কলেজ। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি চারবার এমি পুরস্কার জেতেন। সিরিজের প্রতি পর্ব থেকে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেতেন।

## ব্যক্তিগত জীবন

তারকাখ্যাতির মধ্যেও ডিঙ্কলেজ ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। স্ত্রী এরিকা শ্মিট একজন নাট্যনির্দেশক। পরিবার ও কাজ—এই দুইয়ের মধ্যেই তিনি নিজের জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ডিঙ্কলেজ বহুবার বলেছেন, তিনি ‘সেলিব্রিটি সংস্কৃতি’ খুব একটা পছন্দ করেন না। তিনি ৩০৬ কোটি টাকার মালিক।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/entertainment/peter-dinklage-success-story
