বিশ্বকাপ নিয়ে কায়সার হামিদের বাড়িতে নেই আগের মতো উন্মাদনা। কারণ এবার তাঁর পাশে নেই কন্যা কারিনা কায়সার। গত ১৫ মে মৃত্যু হয়েছে তার।
কায়সার হামিদের সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়। যেখানে বারবার ফিরে এসেছে কারিনার প্রসঙ্গ। জানান, একমাত্র মেয়ের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে এবার নেই বিশ্বকাপ উন্মাদনা।
বাবা-মেয়ের সম্পর্কটা ছিল বন্ধুত্বের, ফুটবলের তাঁরা ছিলেন একই দলের সমর্থক। পরিবারের অন্য সদস্যদের পছন্দ ভিন্ন হলেও বিশ্বকাপ এলেই বাবা-মেয়ের জুটি থাকত একই শিবিরে।
কায়সার হামিদ বলেন, ‘ও ছিল ফুটবলের ভীষণ ভক্ত। মজার বিষয় হলো, আমি ব্রাজিল সমর্থন করতাম, সে–ও তা সমর্থন করত। আবার ব্রাজিল বাদ পড়ে গেলে যদি ফ্রান্স বা জার্মানিকে সমর্থন করি, সেও সেই দলেই চলে যেত।’
শুধু খেলা দেখা নয়, বাবার ফুটবল–ক্যারিয়ারের স্মৃতিগুলোও আগলে রাখতেন কারিনা। কায়সার হামিদ জানান, তাঁর খেলার সময়কার অনেক ভিডিও এখন আর সহজে পাওয়া যায় না। কিন্তু কারিনা ইন্টারনেটে খুঁজে খুঁজে সেসব ভিডিও বের করতেন।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে কায়সার হামিদের পরিচয় অনেক সময় ‘কারিনার বাবা’ হিসেবেও এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারিনার জনপ্রিয়তার কারণে এমনটা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গর্বই বোধ করেন কায়সার হামিদ।
মেয়ের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে অবশ্য বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দেশের ফুটবলের এই কিংবদন্তি। বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ থেকে কথোপকথন যত এগিয়েছে, ততই ফিরে এসেছে কারিনার কথা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে।



















