ডিম্পল কাপাডিয়া মাত্র ১৬ বছর বয়সে 'ববি' ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি সুপারস্টার হন। জনপ্রিয়তার চূড়ায় থাকতেই রাজেশ খান্নার সঙ্গে বিয়ে করে চলচ্চিত্র থেকে সরে যান। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে আবারও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ডিম্পল কাপাডিয়া ১৯৫৭ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা চুনিলাল কাপাডিয়া ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী। ছোটবেলা থেকেই ডিম্পল ছিলেন প্রাণবন্ত ও আত্মবিশ্বাসী। স্কুলজীবনেই মডেলিং শুরু করেন তিনি।
রাজ কাপুর নতুন মুখ খুঁজছিলেন। তাঁর নজরে পড়েন কিশোরী ডিম্পল। রাজ কাপুর বুঝতে পেরেছিলেন, এই মেয়ের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ তারকাসুলভ আবেদন।
১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় 'ববি'। ছবিতে ডিম্পলের বিপরীতে ছিলেন ঋষি কাপুর। মুক্তির পর ছবিটি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই পায়নি, ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।
'ববি'তে ডিম্পলের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নতুন। তাঁর ফ্যাশন, অভিনয়, হাসি, আত্মবিশ্বাস—সবকিছু তরুণ প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছিল। ছবিটি তাঁকে এনে দেয় সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
'ববি' মুক্তির আগেই ডিম্পলের জীবনে আসে আরেকটি বড় ঘটনা। তিনি প্রেমে পড়েন তৎকালীন বলিউড সুপারস্টার রাজেশ খান্নার। ১৯৭৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ডিম্পলের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।
বিয়ের পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অভিনয় ছেড়ে দেন। এমন এক সময়ে তিনি সিনেমা থেকে দূরে সরে গেলেন, যখন তাঁর সামনে ছিল সীমাহীন সম্ভাবনা।
ডিম্পল ও রাজেশ খান্নার সংসারে জন্ম নেয় দুই কন্যা—টুইঙ্কল খান্না ও রিঙ্কি খান্না। বাইরে থেকে তাঁদের পরিবারকে সুখী মনে হলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে।
ডিম্পল পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নিজের স্বাধীনতা ও পরিচয় হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালে তিনি রাজেশ খান্নার সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। যদিও তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়নি কখনো।
ডিম্পলের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় 'জখমি শের'। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি দ্রুত প্রমাণ করেন, তাঁর সাফল্য শুধু সৌন্দর্যের কারণে নয়; অভিনয় দক্ষতাও অসাধারণ।
১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া 'সাগর' ডিম্পলের ক্যারিয়ার বদলে দেয়। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ঋষি কাপুর ও কমল হাসান। এই ছবির জন্য তিনি আবারও ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন।
ডিম্পল শুধু বাণিজ্যিক সিনেমায় আটকে থাকেননি। বরং চরিত্রনির্ভর চলচ্চিত্রে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। 'রুদালি' ছবিতে তাঁর অভিনয় ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা নারী অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডিম্পলের ব্যক্তিগত জীবন সব সময়ই আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে সানি দেওলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন চলেছে। ২০১৭ সালে লন্ডনে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ছবি ভাইরাল হলে পুরোনো গুঞ্জন আবারও নতুন করে আলোচনায় আসে।
ডিম্পলের বড় মেয়ে টুইঙ্কল বিয়ে করেন অক্ষয় কুমারকে। অক্ষয় ও ডিম্পলের সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে বহু মজার গল্প প্রচলিত। শাশুড়ি-জামাইয়ের সম্পর্কের চেয়ে তাঁদের বন্ধুত্বই বেশি আলোচিত।
ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ দশকেও ডিম্পল থেমে থাকেননি। ২০২০ সালে তিনি অভিনয় করেন 'টেনেট'–এ। পরিচালক ছিলেন ক্রিস্টোফার নোলান। নোলানের মতো বিশ্বখ্যাত পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও নজর কাড়েন।
ডিম্পল কাপাডিয়ার বিশেষত্ব হলো, তিনি কখনো নিজেকে একটি নির্দিষ্ট ছকে আটকে রাখেননি। কখনো গ্ল্যামারাস নায়িকা, কখনো জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী, কখনো চরিত্রাভিনেত্রী—প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সফল।



















