# প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে এনএসআই ভেরিফিকেশন বাড়িয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বেগ

*প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে, এরপর শুরু হবে এনএসআই ভেরিফিকেশন।*

১৩ জুন, ২০২৬ · শিক্ষা

## এক নজরে

- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে
- পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর শুরু হবে এনএসআই ভেরিফিকেশন
- চূড়ান্ত ফলাফলের পর চার মাস পার হয়ে গেলেও নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না প্রার্থীরা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হবে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবারই প্রথম যুক্ত হয়েছে এই গোয়েন্দা তদন্ত। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের চার মাস পরও যোগদান আটকে থাকা এবং একের পর এক নতুন শর্ত যুক্ত হওয়ায় নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা এখন চরমে।

## পুলিশ ভেরিফিকেশনের শেষ পর্যায়ে লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইলসহ দেশের প্রায় সব জেলা

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইলসহ দেশের প্রায় সব জেলার পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ এখন শেষ ধাপে রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি। মোট ১৯৭ জন চাকরিপ্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ আমাদের এখানে চলমান। পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই তদন্তকাজ পরিচালনা করছে।’

## পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর শুরু হবে এনএসআই ভেরিফিকেশন

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের ডিআইও-১ (ডিএসবি) এস এম মঞ্জুরে মওলা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত ২৩০ জন প্রার্থীর ভেরিফিকেশন কাজ আমরা করছি। আমাদের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পুলিশের এই ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’ তবে মাঠপর্যায়ে পুলিশের এই যাচাই শেষ হলেও প্রার্থীরা এখনই নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। কারণ, এর পরপরই শুরু হবে নতুন যুক্ত হওয়া গোয়েন্দা তদন্তের প্রক্রিয়া।

## প্রার্থীরা দাবি করছেন দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রথম আলোকে বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে জেলাগুলোতে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশি ভেরিফিকেশনের পর জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) আরও একটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এই দুটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত শিক্ষকদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়োগের এই নতুন নিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। চূড়ান্ত ফলাফলের পর চার মাস পার হয়ে গেলেও কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারায় অনেকেই অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। নীলফামারী জেলার এক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগের দুশ্চিন্তায় সম্প্রতি গুরুতর হৃদ্‌রোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়েছেন বলে তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/education/primary-teacher-recruitment-nsi-verification
