সরকারিকৃত কলেজের নন-ক্যাডার শিক্ষকরা তাদের ৭ যন্ত্রণার কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ, বেতন গ্রেডের অবনমন, পদোন্নতি নেই, জ্যেষ্ঠতা গণনায় বিশৃঙ্খলা, চাকরি স্থায়ীকরণে দীর্ঘসূত্রতা, অবসর–সুবিধার চাঁদা ফেরত না পাওয়া এবং নন-ক্যাডার বাদ দিয়ে ক্যাডার পদ সৃজন। তারা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।
প্রথম যন্ত্রণা: নিয়োগপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে গেছে
সরকারীকরণের পর আমাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া আপাতত ‘আত্তীকরণ’ হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন শিক্ষক নিয়োগের কোনো পথ খোলা নেই। ফলে কলেজে শিক্ষকের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
দ্বিতীয় যন্ত্রণা: বেতন গ্রেডের অবনমন, যেন বেতন কাটা
বেসরকারি আমলে আমরা যে বেতন গ্রেডে চাকরি করতাম, সরকারীকরণের পর সেই গ্রেড নাকি আর বৈধ নয়। একটি নতুন বেতনকাঠামো আরোপ করা হয়েছে, যা আগের চেয়ে কম।
তৃতীয় যন্ত্রণা: পদোন্নতি নেই, বদলি নেই; ক্যারিয়ার যেন থমকে গেছে
সরকারীকরণের পর কোনো পদোন্নতি পাইনি আমি। আমার অনেক সিনিয়র সহকর্মী আছেন, যাঁরা ১৫-২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন, তাঁরাও পদোন্নতি পাননি।
চতুর্থ যন্ত্রণা: জ্যেষ্ঠতা ও চাকরিকাল গণনায় বিশৃঙ্খলা
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, সেই ৪ বছরের পুরোটাই জ্যেষ্ঠতা গণনায় ধরা হয় না। বরং একটি জটিল সূত্র প্রয়োগ করা হয়, যাতে আমার জ্যেষ্ঠতা কমে যায়।
পঞ্চম যন্ত্রণা: চাকরি স্থায়ীকরণে দীর্ঘসূত্রতা ও বকেয়া বেতনের জটিলতা
সরকারীকরণের পর আমরা ‘আত্তীকৃত’ হয়েছি। কিন্তু আমাদের চাকরি এখনো ‘স্থায়ী’ হয়নি। বছরের পর বছর অপেক্ষা করছি।
ষষ্ঠ যন্ত্রণা: অবসর–সুবিধার চাঁদা ফেরত না পাওয়া
আমরা বেসরকারি আমলে ‘অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টে’ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা জমা দিয়েছি। সরকারীকরণের পর সেই ট্রাস্টের অধিভুক্তি শেষ হয়ে যায়। আমরা ফেরত চেয়েছি। জবাব এসেছে, ‘বিধিমালায় সুযোগ নেই।’
সপ্তম ও সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা: নন-ক্যাডার বাদ দিয়ে ক্যাডার পদ সৃজন
আমরা সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছি যখন শুনলাম, ‘সরকারিকৃত’ কলেজগুলোতে নন-ক্যাডারদের পদ সৃজন না করে বরং নতুন করে ক্যাডার পদ সৃজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।




















