# চীনে আট বছর: এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অসাধারণ যাত্রা এবং অর্জন

*চীনে আট বছর কাটিয়ে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তিনটি ডিগ্রি অর্জন করেছেন, চীনা ভাষা শিখেছেন এবং নিজেকে নতুন করে চিনেছেন।*

১৩ জুন, ২০২৬ · শিক্ষা

## এক নজরে

- চীনে আট বছর কাটিয়ে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তিনটি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
- চীনা ভাষা শিখেছেন এবং নিজেকে নতুন করে চিনেছেন।
- চীনের বিভিন্ন শহর ঘুরেছেন এবং চীনের শিক্ষাব্যবস্থা এবং সংস্কৃতি নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

চীনে আট বছর কাটিয়ে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তিনটি ডিগ্রি অর্জন করেছেন, চীনা ভাষা শিখেছেন এবং নিজেকে নতুন করে চিনেছেন। তিনি চীনের বিভিন্ন শহর ঘুরেছেন, চীনের শিক্ষাব্যবস্থা এবং সংস্কৃতি নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

## চীনে আগমন এবং প্রাথমিক অভিজ্ঞতা

নভেম্বরের এক গভীর রাতে প্রথমবারের মতো চীনের কুনমিং চাংশুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামি। হাতে কয়েকটি ব্যাগ, পকেটে অল্প কিছু ইউয়ান আর মনে ছিল অজানা ভবিষ্যতকে ঘিরে একরাশ স্বপ্ন ও শঙ্কা। আমি তখন টিনএজার, চীন নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। শুধু জানতাম, দেশটা আমার জীবন বদলে দেবে। কিন্তু কতটা বদলে দেবে, সেটা তখন কল্পনাও করতে পারিনি।

## চীনা ভাষা শেখার যাত্রা

প্রথম ছয় মাস কেটেছে যেন এক অদৃশ্য কাচের দেয়ালের ওপাশে বসে—সব দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু ছুঁতে পারছি না। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, এই ভাষা আমাকে আয়ত্ত করতেই হবে। শুরু করলাম চীনা ভাষা—ম্যান্ডারিন শেখা। বর্তমানে ম্যান্ডারিন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা করতে পারি এবং চীনা ও বাংলাদেশি টিমের মধ্যে সেতু হয়ে কাজ করেছি।

## চীনের শিক্ষাব্যবস্থা এবং গবেষণা

চীনের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু না বললেই নয়। ইউনানে ডিপ্লোমা করার সময় প্রথম যে জিনিসটা চোখে লেগেছিল, সেটা হলো শৃঙ্খলা। পরবর্তীকালে নানজিং ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ব্যাচেলর করার সময় বিষয়টা আরও পরিষ্কার হলো। এখানকার ল্যাবরেটরিগুলোতে যে ধরনের যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো একসময় আমার স্বপ্ন ছিল ছুঁয়ে দেখার। এনইউএএ চীনের প্রজেক্ট ২১১-এর অন্তর্ভুক্ত একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়।

## চীনের খাবার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা

খাবারের গল্প না বললে চীনের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রথম সপ্তাহে আমি প্রায় না–খেয়েই কাটিয়েছি। কারণ, যা দেখছি, তা তো বাংলাদেশের খাবারের মতো নয়। চীনের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে হাইস্পিড ট্রেনের কথা। প্রথম যখন নানজিং থেকে গুয়াংঝৌ যাওয়ার জন্য ট্রেনে চড়লাম, ভাবছিলাম—এত দূরত্ব, প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার, যেতে তো কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা লাগবে। কিন্তু ছয়–সাত ঘণ্টার মধ্যেই আমি গুয়াংঝৌ পৌঁছে গেলাম!

## চীনের সংস্কৃতি এবং নিরাপত্তা

সাংস্কৃতিক ধাক্কা খেয়েছি বারবার। চীনারা যখন প্রথম দেখায় বলে ‘নি চি লে মা?’ (তুমি খেয়েছ?) আমি অবাক হয়ে ভাবতাম, আমাকে খাওয়াতে চাচ্ছে না কি! আসলে এটা তাদের ‘কেমন আছ’ বলার সংস্করণ। চীনের নিরাপত্তার ব্যাপারটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। রাত দুইটায় একজন বিদেশি ছাত্র শহরের যেকোনো জায়গায় হাঁটতে পারে, চুরি বা ছিনতাইয়ের কোনো ভয় নেই।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/education/china-eight-years-bangladeshi-student-journey
