অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) অব্যাহতির আওতায় আনার প্রস্তাব করেছেন। এখন থেকে সব ধরনের ফ্রিল্যান্স ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে পাওয়া আয়ে সম্পূর্ণ কর ও ভ্যাট ছাড় মিলবে। অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় এসব ঘোষণা দেন।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল এবং স্টার্টআপ খাতের জন্য আগামী ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে কয়েক ধরনের ভ্যাট অব্যাহতি ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও টেলিকম খাত হতে পারে আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে শুধু আইটি সংশ্লিষ্ট ফ্রিল্যান্সের ওপর কর অব্যাহতি আছে। এই কর অব্যাহতি সুবিধা নতুন বাজেটে অন্যান্য সব ফ্রিল্যান্স আয়ের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের আয় বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন।
এর পাশাপাশি তরুণদের কনটেন্ট ক্রিয়েশন, যেমন ইউটিউব, ফেসবুক বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট তৈরি থেকে পাওয়া আয়ের ওপর কোনো আয়কর দিতে হবে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি। এ ছাড়া স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাধারণত নতুন ব্যবসার শুরুর দিকে আয় কম থাকলেও টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বোঝা হিসেবে কাজ করে। এই সমস্যা সমাধানে স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ‘টার্নওভার ট্যাক্স’ বা আবর্তন কর এক ধাক্কায় শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে সরকার। অর্থাৎ প্রাথমিক অবস্থায় এসব ব্যবসায়িক লেনদেনের ওপর কোনো কর দিতে হবে না।
আয়করে ছাড়ের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) অব্যাহতির আওতায় আনার এই প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজের পরিধি ও উৎসাহ বাড়াতে তাদের প্রদত্ত সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
স্টার্টআপ খাতকে চাঙা করতে আগামী ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে কয়েক ধরনের ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি মওকুফ থাকবে। এ ছাড়া স্টার্টআপ পরিচালনার জন্য স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাটও সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়া হবে।




















